মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
31 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকসুপ্রিম কোর্ট আটকে দিল ডাকযোগে ভোটের ওপর ট্রাম্পের বিধিনিষেধ

সুপ্রিম কোর্ট আটকে দিল ডাকযোগে ভোটের ওপর ট্রাম্পের বিধিনিষেধ

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১১:১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ আদালত নিম্ন আদালতের দেওয়া একটি আদেশ বহাল রাখেন। ওই আদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে মার্কিন ডাক বিভাগকে নিষেধ করা হয়েছিল। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট সীমিত করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।

গত মার্চে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করতে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন ডাক বিভাগ নতুন একটি নিয়ম চালু করে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যগুলোকে ডাক বিভাগকে ভোটারদের একটি তালিকা দিতে হতো এবং ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর জন্য আগে থেকে অনুমোদিত খাম ব্যবহার করতে হতো। নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকা ব্যালট অথবা নিবন্ধিত ভোটারদের তালিকায় নেই—এমন ভোটারের ব্যালট প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতাও ডাক বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল।

তবে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি এই নিয়মের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি বলেন, নতুন নিয়মটি মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এটি বাস্তবায়ন করাও কঠিন হবে।

এর পর ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে জরুরি আবেদন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডাক ব্যবস্থাকে ভোট জালিয়াতির কাজে ব্যবহার থেকে রক্ষা করতে এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ।

আগস্টের শেষ দিকে সুপ্রিম কোর্ট সাময়িকভাবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। তবে তখন আদালত আদেশটির আইনগত বৈধতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

সোমবারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে স্বাক্ষরবিহীন আদেশে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই মামলায় প্রশাসন তাদের আইনি অবস্থান প্রমাণে সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্লারেন্স থমাস ভিন্নমত পোষণ করেন। আলিটো বলেন, কয়েকজন বাদীর এই মামলা করার আইনগত অধিকারই নেই। অন্যদের দাবিকে তিনি আদালতের সাম্প্রতিক এক মামলায় উল্লেখ করা ‘শেষ মুহূর্তের মরিয়া চেষ্টা’র সঙ্গে তুলনা করেন।

ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতি ব্রেট কাভানাও সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তবে ভবিষ্যতে তিনি এই নীতিকে সমর্থন করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে হাজার হাজার ব্যালট সময়মতো পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে এবং ডাকযোগে ভোটের ওপর নির্ভরশীল অনেক ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থন বেশি এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোটের ব্যবহার বেশি। এরই মধ্যে আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ব্যাপক নির্বাচনি জালিয়াতির বিষয়ে তার করা বিভিন্ন দাবি অবশ্য ইতোমধ্যে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্প নিজেও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, যার মধ্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনও রয়েছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর