রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেশটির পুলিশ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যুক্তরাঝ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্লুচেস্টারশায়ার কাউন্টি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটির পাশে থাকা ওয়েলফোর্ড গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করে দেখছেন।
বিবিসি ও স্কাই নিউজসহ বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ ঘাঁটির কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কাউন্টার-টেররিজম ফোর্স তদন্ত করছে, যদিও বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে এবং পুলিশ মনে করছে ঘটনাটি ‘নিয়ন্ত্রণে’ আনা সম্ভব হয়েছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গ্রামীণ রাস্তায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী রোবট দুটি সাদা ভ্যানের (যার পিছনের দরজা খোলা ছিল) এবং একটি বন্ধ দরজার তৃতীয় ভ্যানের চারপাশে চলাচল করছে।
গ্রামের বাসিন্দা জুলিয়ান টাডসবারি জানান, অন্য এক বাসিন্দা ভোরের দিকে গ্রামে তিনটি ‘সন্দেহজনক ভ্যান’ দেখতে পেয়ে পুলিশকে সতর্ক করেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফেয়ারফোর্ডসহ যুক্তরাজ্যের দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘রক্ষাণাত্মক’ সামরিক পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে এই ঘটনার সার্বক্ষণিক অগ্রগতি জানানো হচ্ছে।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমরা জরুরি পরিষেবাগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা জরুরি ও বিশেষজ্ঞ দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা আশ্বস্ত হতে পারি যে বিষয়টি সতর্কতার সাথে সামলানো হচ্ছে।’
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হ্যাজার্ডাস এরিয়া রেসপন্স টিমসহ বিপুল সংখ্যক জরুরি পরিষেবা কর্মী ওই এলাকায় উপস্থিত রয়েছে।
গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ ঘোষণার পর ওয়েলফোর্ড এলাকার বেশ কয়েকটি বাসা-বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি আরও যোগ করে, বিস্ফোরক আইনের অধীনে সন্দেহজনক অপরাধ তৎপরতার কারণে কয়েকজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রামবাসীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
পুলিশ জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটির কাছে থাকা ওয়েলফোর্ড গ্রামের বাসিন্দাদের পার্শ্ববর্তী একটি বিনোদন কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওয়েলফোর্ড গ্রামটি ‘রয়্যাল এয়ার ফোর্স ফেয়ারফোর্ড’ ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত, যা মার্কিন বিমান বাহিনীও ব্যবহার করে থাকে।
ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি হলো মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি প্রশাসনিক সাপোর্ট উইং ‘৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং’-এর ইউকে ঘাঁটি।
এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় মার্কিন বিমান বাহিনীর কোনো কর্মী জড়িত ছিল না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘৫০১তম কমব্যাট সাপোর্ট উইং আমাদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করে। আমাদের সামরিক ও স্থানীয় অধিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের ব্রিটিশ সহযোগীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছি।’
এলাকাটির পার্লামেন্ট সদস্য রোজ সেভেজ পরিস্থিতিটিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমি পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যের জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমাকে বলা হয়েছে যে, ঘটনাটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।’
শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই ঘটনাটি সামনে এলো।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শবানা মাহমুদ এর আগে ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে তাদের ‘প্রক্সি’ বা প্রতিনিধি ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ এনেছিলেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে ৩০০টিরও বেশি সময় ড্রোন দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ড্রোন তৎপরতার পেছনে কারা জড়িত তা প্রকাশ করেনি, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে রাশিয়ার সন্দেহভাজন ‘হাইব্রিড অপারেশন’ বা বহুমুখী তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করার পর এই তথ্যগুলো সামনে আসে।
যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী লুইস স্যান্ডার-জোনস এএফপি-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকার সামরিক স্থাপনাগুলোতে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোনের তৈরি করা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।


