শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
17 C
Dhaka
Homeজাতীয়নজরে চীন ও বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গে নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

নজরে চীন ও বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গে নৌ ঘাঁটি গড়ছে ভারত

প্রকাশ: জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ১:৪৪

চীন-পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সখ্যতায় বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে ভারত। আর এজন্য বাংলাদেশের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখার জন্য নতুন একটি নৌঘাঁটি বানাচ্ছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বন্দরশহর হলদিয়ায় তৈরি করা হবে এই নৌঘাঁটি। বাংলাদেশের পাশাপাশি চীনের তৎপরতার ওপরও নজর রাখা হবে এখান থেকে।রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সম্প্রতি বঙ্গপোসাগরের উত্তরদিকে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়ছে; আবার একই সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে কাছাকাছি আসছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার পাকিস্তান সফরও করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন এই নৌঁঘাটি তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা থেকে ঘাঁটিটির দূরত্ব হবে ১০০ কিলোমিটার। হলদিয়ায় নৌঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদী থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গপোসাগরে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌ সেনারা।

নৌঘাঁটি তৈরির ক্ষেত্রে হলদিয়ারি ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে অপারেশনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে নৌবাহিনীর, অন্যদিকে অতিরিক্ত অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনও পড়বে অনেক কম।

ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে বেশ কয়েকটি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফটস (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফটস (এনডব্লিউজেএফএসি)-এর মতো দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ। এসব সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজগুলোর গতি ৪০ থেকে ৪৫ নট, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৭৪ দশমিক ০৮ থেকে ৮৩ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার।Advertisementভারতীয় নৌবাহিনীর এফাআইসি এবং এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযান। সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান এবং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন নাগাস্ত্র সিস্টেমসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা হবে এই নৌযানগুলোকে।

প্রস্তাবিত নতুন এই ঘাঁটিতে সার্বক্ষণিকভাবে ১০০ জন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিক থাকবেন বলে জানা গেছে মূলত, বঙ্গপোসাগর ও ভারত মহাসাগারে চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত সাম্প্রতিক বিভিন্ন চুক্তি এবং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশেল ঘন ঘন যোগাযোগের কারণেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নৌঘাঁটি তৈরি করছে ভারত।

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর