বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
33 C
Dhaka
Homeজাতীয়সরাসরি ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর তারিখ জানালেন বিমানমন্ত্রী

সরাসরি ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর তারিখ জানালেন বিমানমন্ত্রী

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৮:১৫

আগামী বছর ঢাকা ও নিউইয়র্কের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।

গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ‘ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট’ (আইএএসএ) কর্মসূচির আওতায় ‘ক্যাটাগরি-১’ মর্যাদা অর্জন করা অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন যে, ঢাকা-নিউ ইয়র্ক (জেএফকে) রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার প্রক্রিয়া সহজতর করতে ওয়াশিংটন সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

বৈঠককালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ‘এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়নের কাজ করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক ‘এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত একটি ‘লেগাসি ক্যারিয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন বিমান সংগ্রহের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

তবে, মন্ত্রী বোয়িং বিমানগুলোর সরবরাহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেন।

পর্যটন খাতের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রয়েছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য; সরকার দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানের গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে।

জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব বা বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার পাশে যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে আগ্রহী।

এছাড়া পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় রাষ্ট্রদূত মিল্লাতকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনার প্রসারে সহায়তা করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর