আগামী ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দুবাইয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ইলন মাস্কের বোরিং কোম্পানির
উচ্চাভিলাষী ভূগর্ভস্থ পরিবহন প্রকল্প ‘দুবাই লুপ’। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব এই পরিবহন ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের নগর যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) ও বোরিং কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই লুপ প্রকল্পটি প্রাথমিক ধাপে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং ১১টি স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা প্রদান করবে। অত্যাধুনিক এই টানেল ব্যবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় ২০ হাজারেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুবাই লুপ মূলত একটি উচ্চগতির ভূগর্ভস্থ টানেল ব্যবস্থা, যেখানে টেসলা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো সরাসরি যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। প্রচলিত মেট্রো রেলের মতো প্রতিটি স্টেশনে থামার প্রয়োজন না থাকায় ভ্রমণ সময় যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীরা পাবেন নিরবচ্ছিন্ন ও পরিচ্ছন্ন যাতায়াতের অভিজ্ঞতা।
সর্বোচ্চ ১০০ মাইল বা ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগে চলা এসব যানবাহন দুবাইয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ও পর্যটন এলাকাগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। দুবাইয়ের ‘ক্লিন এনার্জি স্ট্রাটেজি ২০৫০’ এবং ‘আরবান মাস্টার প্ল্যান ২০৪০’-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই শূন্য-নির্গমন পরিবহন ব্যবস্থাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুবাই লুপে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি টানেলে জরুরি নির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ২৪ ঘণ্টা কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বোরিং কোম্পানির সফল ‘ভেগাস লুপ’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে দুবাইয়ে এই প্রযুক্তি আনা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই ভূগর্ভস্থ টানেলগুলো অত্যন্ত নিরাপদ থাকবে বলে দাবি করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৬ সালে চালুর পর এই প্রকল্পটি দুবাইকে আবারও বিশ্বের ভবিষ্যৎমুখী পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।


