নেপালে রেড ক্রসের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বিবিসি নিউজকে বলেন, সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে মানুষ ‘খুবই উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত’ হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষ এখনো এই ভয়াবহ দুর্যোগের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। তারা স্বাভাবিকভাবেই গভীরভাবে শোকাহত ও হতবিহ্বল।’
ত্রাণ কার্যক্রমের পরিকল্পনায় নতুন এই ঝুঁকি কীভাবে প্রভাব ফেলছে; এমন প্রশ্নের জবাবে ফিশার বলেন, রেড ক্রসের দলগুলো ধীরে ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। তারা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। কাঠমান্ডুর গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রীর বড় অংশ এখনো ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, সম্ভাব্য এই নতুন বন্যার পথে এখনো যেসব মানুষ রয়েছেন, তাদের জীবন রক্ষা করা।’
এদিকে চীন-নেপাল সীমান্তের একটি এলাকায় জমে থাকা পানিতে নতুন একটি হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে এর পানি বাড়তে থাকায় যেকোনো সময় এটি উপচে বা তীর ভেঙে বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকালের ভয়াবহ ভূমিধসের পর উদ্ধারকারীরা যখন জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই নতুন এই জলাধার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিব্বতে চীনা উদ্ধারকারী দলগুলো গিয়রং বন্দরের কাছে বন্যার ঝুঁকি পর্যালোচনা করছে। নেপালের চোচেন নদী ও পুরুচাংপো জাংবো নদীর মিলনস্থলের কাছে এই জলাধারটির সৃষ্টি হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলাধারটির স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ করা এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে জলাধারটিতে জমে থাকা পানির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী তিন দিনের মধ্যে জলাধারটির তীর ভেঙে যেতে পারে।


