মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
27.4 C
Dhaka

হাত দিয়ে গোল দেওয়া ‘দিবস’ আজ

0

দিনটি ছিল ২২ জুন ১৯৮৬। মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ম্যাচ হিসেবে আজও স্মরণ করা হয় সেই লড়াইকে। আর এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

ম্যাচের প্রথম ৫০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ৫২ মিনিটে আসে সেই বহুল আলোচিত মুহূর্ত। ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ভেসে আসা বলের দখল নিতে একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা ও ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিল্টন। শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়িয়ে যায় এবং আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।

তবে গোলটি হওয়ার পরপরই শুরু হয় বিতর্ক। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলতে থাকেন— এটি কি সত্যিই মাথা দিয়ে করা গোল, নাকি হাতে বল স্পর্শ করেছিলেন ম্যারাডোনা? ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গেই জোরালো প্রতিবাদ ওঠে। কিন্তু ম্যাচ কর্মকর্তারা গোলটি বৈধ বলে স্বীকৃতি দেন।

সেই মুহূর্তে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও, খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন যে এই ঘটনাই একদিন বিশ্ব ক্রীড়ার ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠবে।

পরবর্তীতে গোলটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে। এই নামটি দিয়েছিলেন স্বয়ং ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিখ্যাত সেই মন্তব্য করেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আর একটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’

চার দশক পরও ২২ জুন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণ করিয়ে দেয় সেই বিতর্কিত অথচ কিংবদন্তিতুল্য মুহূর্তকে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে আছে ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে।

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

0
কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তিনি সেখানে পৌঁছান।

এর আগে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে সোমবার (২২ ‍জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের ‍উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাত্রা শুরু করেছেন। দালিয়ানে দুইদিন কর্মব্যস্ত থাকবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।

দালিয়ানে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এই সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির আভাস

0

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী অথবা অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। ঝড়বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের এ প্রবণতা আগামী কয়েক দিনে আরও বাড়তে পারে।

বিদেশিদের জন্য ভিসা ফি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়িয়েছে জাপান

0

বিদেশিদের জন্য ভিসা ফি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়িয়েছে জাপান। প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথমবারের মতো এই ফি পুনর্নির্ধারণ করা হলো, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ভিসার খরচ পাঁচ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর বিবিসির।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন হার কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জাপান সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার ফি ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ২ হাজার ২৭৮ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন বা ১১ হাজার ৩৯৫ টাকা করা হয়েছে।

একইভাবে মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার ফি ৬ হাজার ইয়েন বা ৪ হাজার ৫৫৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ইয়েন বা ২২ হাজার ৭৯০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তশিমিতসু মতেগি জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এতে তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটক আগমনে বড় কোনও প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন না।

দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা জাপানি ইয়েনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মহামারির পর পর্যটন খাত পুনরায় উত্থান ঘটায় গত বছর জাপানে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।

এদিকে শুধু ভিসা ফি নয়, বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি-ও বাড়িয়েছে জাপান। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে গৃহীত এক আইনে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন বা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৭ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি।

এ ছাড়া বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন বা ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ফি-ও ১০ হাজার ইয়েন বা ৭ হাজার ৫৯৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন বা ৭৫ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০২৭ সালের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

0

২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চাইছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। একইসঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগের জন্য মালয়েশিয়াকে বিশেষ আহ্বানও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও দূরদর্শী চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষই তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সুগম করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শক্তি এবং অবকাঠামো খাতের মতো উচ্চ-মূল্যবান শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় শক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারককে পূর্ণ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।

একইসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত, নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

এ প্রসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপ শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করবে। জেডব্লিউজির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন করা। বর্তমান চুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে গ্রুপটি।

এ ছাড়া, উভয় দেশের বর্তমান চাহিদা, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি নতুন ও হালনাগাদ এমওইউ প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করাও এই গ্রুপের অন্যতম লক্ষ্য।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মানুষে মানুষে যোগাযোগের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে দেশটি। তবে, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে নতুন কর্মী কোটার অনুমোদন নিয়োগকর্তাদের যাচাই করা চাহিদা এবং খাতভিত্তিক নির্ধারিত সীমার ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমোদিত যেকোনো কর্মী কোটার ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক করতে উভয় দেশই কেবল বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্যতাসম্পন্ন নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দেশে সোনার দামে বড় লাফ

0
সোনার দামে আবারও রেকর্ড

সোমবার (২২ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা ও
সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি যোগ হবে। এছাড়া স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

এর আগে,  গত ২০ জুন সোনার দাম সমন্বয় করে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৭৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ বার দাম বেড়েছে, ৩৮ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে সোনার দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস করা হয়েছিল।

এদিকে দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৪৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৩ বার হ্রাস করা হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।

মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (২২ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো অন্বেষণের জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরের সময় আমার মনে আছে, আমার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সেই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছিল এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। আমার মনে আছে, আমার মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত করেছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।

তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং আমি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।

সরকারপ্রধান বলেন, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে আমরা সম্মত হয়েছি। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানাই এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে জনগণের অপ্রতিরোধ্য সমর্থনে শক্তিশালী ম্যান্ডেট পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের অর্থনীতি ও সমাজ—উভয়েরই উপকারে আসে।

সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও লাঞ্ছনার অভিযোগে থানায় জিডি

0

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মা–মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় সীলগালা ও পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘ফটিকছড়ি সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক মানবকণ্ঠের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ নাজিমকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে তিনি ফটিকছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উক্ত ক্লিনিকের কার্যক্রম, লাইসেন্স ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং গত ১৯ জুন ফটিকছড়িতে স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে বিএনপির একটি কর্মসূচি চলাকালে সংবাদ সংগ্রহে গেলে যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরী তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন এবং তার ওপর শারীরিকভাবে হামলা করে পাঞ্জাবীর কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এমপির প্রোগ্রাম চলাকালীন সময়ে প্রোগ্রামের বাইরে ন্যাক্কারজনক এই কান্ড করে বসেন যুবদলের এই নেতা। এ সময় তাকে একাধিকবার এমপি’র নাম ব্যবহার করতেও শুনা যায়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে হুমকিসূচক ও উত্তেজনাকর ভাষায় কথা বলতেও দেখা যায়।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় উত্তেজিত হয়ে তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আইঁ রশিদ চৌধুরী ত, এই বিবিরাটত জামাত – বিএনপি গুন্ডামি গরতে হলে আরঁ লগে কথা কইজম পরিবু। তুই গুন্ডাগিরি গত্তি, তুই গুন্ডাইগিরি কাত্তে শিক্কুজ্জে, এডে গুন্ডাইগিরি কইল্লে গরজ্জে? এখন ডিলেট গর, আছারি মারি ফেলাইয়ুম, আছারি মারি ফেলাইয়ুম একবেরে দরি। তুই এখন ডিলেট গর মাদারি, তোরে শিখাইয়িযে কনে? আইঁ কন ন চিনোস, আইঁ বিবিরাটর কন নো চিনছ, এই স্পর্ধা দিল হনে তোরে, আর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিউজ গরিবেল্লাই এই স্পর্ধা দিল কনে, কোন মাগির পোয়া দিয়ি তোরে”……।

সাংবাদিক শাহনেওয়াজ নাজিম বলেন, জনস্বার্থে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করেছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি নিজের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত সেবা ক্লিনিকটির লাইসেন্স, নবায়ন ও পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। প্রসূতি মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার পর এসব বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ওই ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ফটিকছড়ি প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ফটিকছড়ি উপজেলার নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং হত্যার হুমকিদাতা রসিদকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা আহমেদ রশিদ চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্লিনিকটির লাইসেন্স ও পরিচালনা সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি, নয়তো ভবিষ্যতেও অতীতের মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

ঢাকায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ৩ জনের মৃত্যু

0
ঢাকায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ৩ জনের মৃত্যু
ঢাকায় বজ্রপাতে একসঙ্গে ৩ জনের মৃত্যু

ঢাকার সাভারে সবজি ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে বনগাঁ ইউনিয়নের কোন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইমরান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে একজনের নাম কুটি ব্যাপারী (৭০) বলে জানা গেছে। অপর দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বনগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য কামরুন্নাহার বলেন, কুটি ব্যাপারী দুই কৃষককে নিয়ে ক্ষেত থেকে সবজি তুলছিলেন। বিকেলে বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে তিনজনই মারা যান।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত

0

রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন মন্ত্রী।

এ সময় জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নতুন কোনো ধারণা নয় উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ব্যারেজ নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে চারটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো) পরিচালিত প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ি এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকাকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয় এবং চারটি দেশীয় ও তিনটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, পাশাপাশি পাঁচটি দেশীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এ সমীক্ষা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়।

মন্ত্রী বলেন, সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণীত নকশা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটির পর্যালোচনা ও মতামতের আলোকে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত এলাকায় নদীতীরের স্থিতিশীলতা রয়েছে। একইসঙ্গে চর গঠনের ফলে ব্যারেজ নির্মাণের জন্য পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত অবস্থান অনুকূল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মার মতো বৃহৎ নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ কারণে নকশা হালনাগাদ এবং প্রয়োজনীয় অভিযোজন নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের জটিলতা বিবেচনায় বুয়েটের একজন অবসরপ্রাপ্ত খ্যাতিমান পানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।