রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। রায়ে একজনের প্রার্থিতা বৈধ হলেও বাকি দুই প্রার্থী পেয়েছেন দুঃসংবাদ।
এদিনের রায়ে কুমিল্লা–১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। আপিল বিভাগ তার বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপির অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে রায় দেন। এর ফলে, তার নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো বাধা রইল না এবং তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়েই লড়াইয়ে থাকছেন।
একই আসনে (কুমিল্লা-১০) বিএনপির অপর প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে থাকা দ্বৈত নাগরিকত্বের (আমেরিকা) অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আপিল বিভাগ তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। ফলে, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না হেভিওয়েট এ নেতা।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা পুনরুদ্ধারের জন্য তার করা ‘লিভ টু আপিল’ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ও হাইকোর্ট কর্তৃক তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত রইল।
এই আসনে জামায়াতের ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচন করছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে, ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলে ইসিতে আবেদন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণ খেলাপির অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই আদেশের পর এই তিন প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে সকল আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল। রায়ের ফলে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নির্বাচনী মাঠে ফিরলেও আবদুল গফুর ভূঁইয়া ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবারের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।


