২৫ বছরের অভিজ্ঞ বোর্ড-সার্টিফায়েড কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন জানান, বর্তমান সময়ে কিছু খাবার ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে দেয় আর এতেই বাড়ছে রোগ।
তিনি জানান আপনি কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে হৃদরোগ, মেটাবলিক সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাক কমাতে হলে কিছু খাবার সীমিত করা জরুরি। কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন চার ধরনের খাবার সম্পর্কে সতর্ক করেন।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তিনি চার ধরনের খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রথমেই তিনি অ্যালকোহলের কথা উল্লেখ করেন। এরপর রয়েছে প্রসেসড মাংস বিশেষ করে হট ডগ এবং ডেলি মিটস। তৃতীয়ত, তিনি সতর্ক করেন চিনিযুক্ত পানীয় সম্পর্কে। তার ভাষায়, “এসব পানীয়তে থাকে ফাঁকা ক্যালরি, যা কখনও পেট ভরায় না।” ফলে নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। সবশেষে তিনি স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার কম খেতে বলেন। এর মধ্যে রয়েছে বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন এবং ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত পণ্য।
পরিমিত খাদ্যাভ্যাস
ডা. লন্ডন বলেন, বাস্তব জীবনে সবসময় নিখুঁত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা কঠিন। তাই কঠোর নিয়ম না মেনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ধারাবাহিক পদ্ধতি অনুসরণ করা বেশি কার্যকর।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি একটি সহজ নীতির কথা বলেন, আমার ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ সময় ঠিকভাবে খেতে পারলেই আমি সেটাকে সফলতা মনে করি। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এই খাবারগুলো কমানো এবং পরিমিতভাবে খাওয়া। তবে এগুলো যেন আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার ভিত্তি না হয়ে ওঠে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে বলা যায়, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে কঠোর ডায়েট নয়, বরং সচেতন ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও খাবার সবাই খাচ্ছে বলেই যে সেট আখেয়ে হবে বিষয়তা এমন নয়। খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অসাস্থ্যকর নিয়মিত খেয়েই হার্টের ক্ষতি হবে তাই সম্ভব হলে এই ধরনের খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস


