বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
30 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকহরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণে লাগতে পারে ৬ মাস, সতর্ক করল পেন্টাগন

হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণে লাগতে পারে ৬ মাস, সতর্ক করল পেন্টাগন

প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১০:৫৮

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন সরাতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে এই সময়সীমার ধারণা তুলে ধরেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক অবরোধের কারণে এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামে চাপ বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় মূল্য বুধবার (২২ এপ্রিল) দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার— তথ্য দিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এই প্রতিবেদনের কিছু অংশকে ‘ভুল’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করে সত্যের চেয়ে অন্য উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে তিনজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইরান হরমুজ প্রণালির আশপাশে ২০টির বেশি নৌ-মাইন স্থাপন করেছে। এর কিছু নৌকা থেকে ফেলা হয়েছে, আবার কিছু জিপিএস-নিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে— যা শনাক্ত করা কঠিন।

কীভাবে এসব মাইন অপসারণ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন কিছু কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান এই প্রণালিতে মাইন স্থাপন শুরু করে।

ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৫ হাজারের বেশি নৌ-মাইন রয়েছে, যা প্রণালির অগভীর পানি ও সরু পথের কারণে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

এর আগে মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি মাইন অপসারণ না করে, তাহলে তাদের ‘অভূতপূর্ব পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান নিজেও সব মাইনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না এবং সেগুলো উদ্ধার করার সক্ষমতাও তাদের সীমিত।

বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যা সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। তবে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে আলোচনা এখনও চলছে।

সূত্র: ইয়াহু

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর