দুইজন ইসরায়েলি এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ও আরব আমিরাতের মধ্যে সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে, যুদ্ধের সময় আয়রন ডোম মোতায়েনের এই বিষয়টি এর আগে কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমিরাতে বেশি হামলা করেছে ইরান। যুদ্ধের ৩৮ দিনে আমিরাতের দিকে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ২ হাজার ২০০-এর বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও এর বেশিরভাগই আকাশপথে ধ্বংস করা হয়েছে, তবে কিছু মিসাইল ও ড্রোন দেশটির সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
ইরানের এই ব্যাপক হামলার মুখে আমিরাত তার মিত্রদের কাছে সহায়তা প্রার্থনা করে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) একটি ‘আয়রন ডোম’ ব্যাটারি এবং কয়েক ডজন অপারেটর পাঠানোর নির্দেশ দেন।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েল অন্য কোনো দেশে আয়রন ডোম ব্যাটারি পাঠালো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে আরব আমিরাত প্রথম দেশ যেখানে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। সিস্টেমটি সেখানে কয়েক ডজন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে বলে অন্য একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
কর্মকর্তারা আরও জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশ দুটি সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। এমনকি আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে আঘাত হানার আগেই দক্ষিণ ইরানে মোতায়েন করা স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী অসংখ্যবার বিমান হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের মাটিতে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে, ইসরায়েল যখন নিজে তীব্র হামলার মুখে ছিল, তখন অন্য দেশকে রক্ষা করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শেয়ার করার সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইসরায়েল ও আরব আমিরাত একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে। যদিও গাজা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাঝে মাঝে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তবে বর্তমানে দুই দেশের অংশীদারিত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী বলে কর্মকর্তারা মনে করেন।
আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা তারেক আল-ওতাইবা এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘কঠিন সময়ে যে দেশগুলো আমিরাতকে প্রকৃত সহায়তা দিয়েছে, ইসরায়েল তাদের মধ্যে অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে প্রকৃত মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।’
নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের এই সহযোগিতার বিষয়ে আমিরাতের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সংকটকালে ইসরায়েলের এই সহায়তার কথা আমরা কখনো ভুলব না।’


