শরীরের এমন ছোট ছোট সংকেত কখনও কখনও বড় রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে এসব লক্ষণ যদি নিয়মিত দেখা দেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী থাকে, তাহলে চিকিৎসকদের মতে, অবহেলা না করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা জরুরি।
সকালের যে লক্ষণ দেখলে সাবধান হতে হবে
২০২২ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসার বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২০ সালে প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই রোগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসারের লক্ষণগুলো খুব নীরবে দেখা দেয়। অনেকসময় দেখা যায় নিয়মিত সকালের কাশিকে সাধারণভাবে নেয়া হলেও এটা আসলে ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ।
চিকিৎসকদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই যদি নিয়মিত কাশি হয়, বিশেষ করে তা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। ফার্মাসিস্ট আব্বাস কানানির মতে ধূমপায়ীদের সকালে কাশি হওয়া সাধারণ, কিন্তু যদি এই কাশি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই পরীক্ষা করানো উচিত। কারণ দীর্ঘদিনের কাশি ফুসফুসজনিত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
গলা ব্যথাও হতে পারে সতর্ক সংকেত
শুধু কাশি নয়, সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি গলা ব্যথা অনুভূত হয় এবং তা দীর্ঘদিন ধরে না সারে, তাহলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক সময় আমরা এটিকে সাধারণ ঠান্ডা-কাশি ভেবে অবহেলা করি, কিন্তু এটি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
ক্যানসার কেন হয়
ক্যানসার মূলত শরীরের কোষের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয়। এই কোষগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টিউমারে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, তামাকের ধোঁয়া, অ্যালকোহল, দূষণ এবং কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ক্যানসারের জন্য দায়ী হতে পারে।
ঝুঁকি বাড়ায় যেসব অভ্যাস
দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। যেমন ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং বায়ুদূষণের মধ্যে থাকা। এছাড়া কিছু সংক্রমণও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
যেভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবেন
ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খাওয়া, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, প্রয়োজনীয় টিকা নেয়া এবং অতিরিক্ত রোদ এড়িয়ে চলা এসব অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
সকালের ছোট একটি লক্ষণ যেমন কাশি বা গলা ব্যথা অনেক সময় বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এসব লক্ষণকে অবহেলা না করে যদি সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


