পশুখাদ্যের চড়া দাম এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে ভিনদেশি গরু আসার আশঙ্কায় খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে মোট ২ হাজার ১১৭ জন প্রান্তিক কৃষক ও খামারি এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু লালন-পালন করেছেন। খামারিদের দাবি, তারা কোনো ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে এসব পশু মোটাতাজা করেছেন।
তবে খামারিরা অভিযোগ করছেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে পরিবহণ খরচ ও পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এছাড়া ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে খামার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি বেগ পেতে হয়েছে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, সবকিছুর দাম বাড়ায় এবার গরু পালতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। এখন বড় আতঙ্ক হলো সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশের গরু আসা। যদি বিদেশ থেকে পশু ঢোকে, তবে আমাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।
অন্যদিকে, হাটের ঝামেলা এড়াতে অনেকে সরাসরি খামার থেকেই কোরবানির পশু কিনছেন। পাড়া-মহল্লার খামারগুলোতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে পছন্দের পশু কিনতে পেরে ক্রেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদুল ইসলাম জানান, ভৈরবে প্রস্তুতকৃত ২৮ হাজার পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, কোরবানির পশুর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রক্ষায় সাতটি ইউনিয়নে ৭টি এবং পৌর এলাকায় ১টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
ডা. নাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় খরচ কিছুটা বেড়েছে এটা সত্য, তবে এ বছর সরকারিভাবে বিদেশ থেকে পশু আমদানির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে দেশি খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


