বিষয়গুলোকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে নিকটস্থ ফার্মেসি থেকে নিজে নিজেই ওষুধ এনে সেবন করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন বা সেটিরিজেনের মতো ওষুধ গ্রহণ করা হয়।
এ ধরনের ওষুধ সেবনে সমস্যা না থাকলেও সেভাবে ক্ষতি হয় না। কিন্তু তা যদি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলেই যত বিপত্তি। চিকিৎিসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবনে তাৎক্ষণিক সমস্যা বুঝতে না পারলেও দীর্ঘদিন ধরে এর ক্ষতিকর প্রভাব বোঝা যায়। অনেক সময় এ থেকে মৃত্যুমুখি জটিল রোগ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য এসবের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া জানা ভালো। এ ব্যাপারে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনে নেয়া যাক-
প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন):
সাধারণত শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা বা জ্বর হলে, শরীরে হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা ও দাঁত ব্যথা হলে প্যারাসিটামল সেবন করা হয়।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: বমি বমি ভাব ও ক্ষুধাভাব কমে যাওয়া হচ্ছে প্রাথমিক লক্ষণ। শরীরের ব্যথা বা জ্বর যদি দীর্ঘদিনেও না যায়, তাহলে অনেকেই নিয়মিত প্যারাসিটামল সেবনের অভ্যাস করেন। এতে লিভারের ওপর প্রতিক্রিয়া পড়তে থাকে।
আইবুপ্রোফেন:
ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সাধারণত আইবুপ্রোফেন ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে পেশির ব্যথা ও মাসিকের ব্যথার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় এটি। আর্থ্রাইটিসের সমস্যায়ও অনেকে আইবুপ্রোফেন ব্যবহার করেন।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: চিকিৎসা না করিয়ে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন আইবুপ্রোফেন সেবন করলে পেটের আলসার থেকে কিডনির ভয়ানক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রক্তচাপ বৃদ্ধি থেকে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অ্যাসপিরিন:
ব্যথা উপশম ও জ্বর কমাতে অ্যাসপিরিন সেবন করা হয়। কোথাও আঘাত পেলে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে ব্যবহার হয় এটি।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত ও আলসারের সমস্যা হয়ে থাকে।
সেটিরিজিন:
এটি অ্যালার্জি কমাতে গ্রহণ করা হয়। বারবার হাঁচি, কাশি ও ত্বকে চুলকানির মতো সমস্যায় সেটিরিজন ব্যবহারে উপকার মিলে।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ক্লান্ত বা অলস লাগা, মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ হতে পারে।
লোপেরামাইড:
সাধারণত ডায়রিয়া থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্যবহার হয় লোপেরামাইড।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: লোপেরামাইড দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতার মতো সমস্যা হয়ে থাকে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকিও দেখা দেয়।
ওমিপ্রাজল:
অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ব্যবহার হয় এটি। গ্যাসট্রাইটিস নিয়ন্ত্রণ ও পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে সেবন করা হয় ওমিপ্র্রাজল।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া ও হাড়ের দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়। ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রার ভারসাম্যও নষ্ট হয়।
ডেক্সট্রোমেথরফোন:
সাধারণত শুকনো কাশি কমানোর জন্য খাওয়া হয় এই ডেক্সট্রোমেথরফোন।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এটি অতিরিক্ত বা নিয়মিত খাওয়ার কারণে মাথা ঘোরা ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি আসক্তিও হতে পারে।


