শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
28.1 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকসীমান্তে সমন্বিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াবে বাংলাদেশ-ভারত

সীমান্তে সমন্বিত টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়াবে বাংলাদেশ-ভারত

প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৯:২৯

অনুপ্রবেশ ও সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। 

রয়টার্সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে দুই দেশের সীমান্তে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত টহল আরও বাড়ানো হবে।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এর মাঝেই ভারতের ‘অবৈধ’ অভিবাসী চিহ্নিত করে ঢালাওভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন কার্যক্রম সেই চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক অভিবাসীদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ঢাকা।

এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে এই যৌথ বিবৃতি এল। তাতে বলা হয়েছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-এর (বিএসএফ) মধ্যে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক ও দূরদর্শী’ আলোচনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে ‘অবৈধ, অসচেতন ও বলপূর্বক অনুপ্রবেশ’-এর মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলোও এই নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর অন্যতম হলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের মতো প্রধান সীমান্ত রাজ্যগুলোর ক্ষমতায় রয়েছে।

বিজেপি সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানোকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার ও অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। গত বছর থেকেই তারা বাংলাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে নয়াদিল্লিকে এক ডজনেরও বেশি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজিবি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে বিএসএফের বেশ কয়েকটি পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে তারা। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ড্রোন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যেকোনো ধরনের পুশ-ইন ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের সব চেষ্টাই ভেস্তে দিতে পারে।

জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার প্রতিরোধে যেমন সীমান্তে টহল ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে মে মাসে দিল্লি জানায়, ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী প্রায় ২ হাজার ৮৬০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে তারা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মানব পাচার, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, চোরাচালান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা বলা হয়, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষই তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।’

সীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান আরও জোরালো করা হবে বলে জানানো হয় এতে।

আগামী নভেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর