৩৮ বছর বয়সী ত্রেহো তখন নিজের ক্লাবের হয়ে লিগ ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য রাজধানী কারাকাসে ছিলেন। ২৪ জুন (বুধবার) দেশটির উত্তর উপকূলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তখন প্লায়া গ্রান্দে, লা গুয়াইরায় তার পরিবারের বাড়ির ভবনটি ধসে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্র তিনি ছুটে যান দুর্যোগপীড়িত এলাকায়।
পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
সেই সময় ইনস্টাগ্রামে তিনি লেখেন, প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবন ধসে পড়েছে। পরিবারের কোনো খবর জানি না। দয়া করে তাদের জন্য দোয়া করুন। কেউ দেখে থাকলে এই বার্তাটি ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই তারা ওখানে ছিলেন না।
ত্রেহোর বাবা ও ভাই আর্জেন্টিনা থেকে ছুটে আসেন। দমকলকর্মী, সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে মিলে তারা ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান।
শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেইয়া এবং তাদের দুই সন্তান আরন ও আইনোয়ার মরদেহ খুঁজে পান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল জগতে শোকের ঢেউ উঠেছে। ত্রেহোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আর্জেন্টাইন ফুটবলার এডসন তোর্তোলেরো লেখেন, আজ আমার হৃদয় হাজার টুকরো হয়ে গেছে। এত কষ্ট কমানোর মতো কোনো কথা নেই। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, লুকাসকে এই অকল্পনীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিন।
রোববার (২৮ জুন) ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরা একটি বিবৃতিতে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, খেলোয়াড় লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেইয়া এবং সন্তান আরন ও আইনোয়া ত্রেহোর মৃত্যুতে আমরা তার সঙ্গে শোক ভাগ করে নিচ্ছি। তাদের আত্মার শান্তি এবং লুকাস ও তার প্রিয়জনদের জন্য সান্ত্বনা কামনা করি।
ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। ত্রেহোর পরিবার এই ভয়াবহ দুর্যোগের অনেক শিকারের মধ্যে একটি।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে উদ্ধারকারী দল জীবিত উদ্ধার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট


