মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
31.8 C
Dhaka
Homeশিক্ষাকোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

কোনো এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১:১১

করোনাভাইরাসের সংকট কাটিয়ে পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই (অভিন্ন) প্রশ্নপত্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের কোনো বড় এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণ ব্যাহত হলে শুধু ওই অঞ্চলে নয়, প্রয়োজন হলে সারা দেশেই পরীক্ষা স্থগিত করা হবে। 

অভিন্ন প্রশ্নের কারণে দেশের কোনো একটি এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা অন্য কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুযোর্গ দেখা দিলে সারাদেশে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়ায় কোনো এলাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা হতে পারে। আবার ভিন্ন চিন্তাও আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো একটা বিভাগে বড় ধরনের ডিজাস্টার আসলে টোটাল পরীক্ষাটাকে পোস্টপন্ড করে অ্যানাদার একটা ডে-তে আবার সারাদেশে পরীক্ষার আয়োজন করা যেতে পারে। এটাকে আমরা বেটার মনে করছি।

বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রে আসতে দেরি হলে নমনীয়ভাবে দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, একজন পরীক্ষার্থী কোনো কারণে বা দুর্ঘটনায় সময়মতো কেন্দ্রে যেতে না পারলে সেটা স্থানীয় প্রশাসন যদি ইচ্ছা করে এবং যৌক্তিক মনে করে; তাহলে তাকে একটু স্পেস দিয়ে পরীক্ষাটা নিতে পারে। এক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থান আমাদের রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)। প্রথমদিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৩১০টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন তিন লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, দিনাজপুরে ২১২টি কেন্দ্রে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, যশোর বোর্ডে ২৪০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন।

চট্টগ্রামের ১১৪টি কেন্দ্রে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, সিলেটের ৯৬টি কেন্দ্রে ৭১ হাজার ৭১১ জন, কুমিল্লার ১৯৩টি কেন্দ্রে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহের ১১১টি কেন্দ্রে ৭৩ হাজার ৩৭ জন এবং বরিশালের ১৪২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর সারাদেশে ৪৬১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ সাত হাজার ৯৬৪ জন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর