গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে পাওয়া দুটি স্পট কিকই কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। বিশ্বকাপের ছয় আসর মিলিয়ে ৮টি পেনাল্টির মধ্যে চারটিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ড।
এমন পরিস্থিতিতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রশ্ন উঠেছে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টির দায়িত্ব কি অন্য কাউকে দেওয়া হবে? তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, প্রথমত, লিও যদি পেনাল্টি নিতে চায়, তাহলে সেই নেবে। আমাদের দলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা পেনাল্টি নিতে পারে। কিন্তু সে যদি নিতে চায়, তাহলে সেই নেবে।
অর্থাৎ, পেনাল্টি নেওয়ার মতো বিকল্প থাকলেও মেসির অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন আর্জেন্টিনা কোচ। শেষ সিদ্ধান্তও অধিনায়কের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলেও ওপেন প্লেতে মেসির প্রভাব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। চলতি বিশ্বকাপে ৪১০ মিনিট মাঠে থেকে তিনি ১৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। পাশাপাশি করেছেন ৮ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটিও আসে তার তৈরি করা সুযোগ থেকে, পরে নিজেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান।
গত দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে মেসির পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ। এই সময়ে তিনি করেছেন ১৫ গোল, দিয়েছেন ৪টি অ্যাসিস্ট এবং তৈরি করেছেন ৩৬টি গোলের সুযোগ। তাই স্কালোনির মতে, পেনাল্টি মিস তার সামগ্রিক অবদানকে কোনোভাবেই ম্লান করতে পারে না।
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে মেসিকে ডান প্রান্তে খেলতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী মেসি ডান দিকে সরে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বেশি সমস্যা তৈরি করছিলেন। তাই সতীর্থরাও তার অবস্থান অনুযায়ী নিজেদের খেলার ধরন বদলে নেয়।
মেসির শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সন্তুষ্ট আর্জেন্টিনা কোচ। ৩৯ বছর বয়সেও তার কার্যকারিতা কমেনি বলে মনে করেন তিনি।
স্কালোনির ভাষায়, লিও এখনো প্রায় আগের মতোই দৌড়ায়। পার্থক্য হলো, এখন সে যা কিছু করে, তা আরও বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন সে খেলতে চাইবে, ততদিন সে সেরাদের সেরা থাকবে। এটা আমি শুধু তার কোচ হিসেবে নয়, বিশ্বাস থেকেই বলছি।
কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের পারফরম্যান্স নিয়েও আত্মবিশ্বাসী স্কালোনি। তার মতে, কেপ ভার্দে ও মিশরের বিপক্ষে কঠিন দুটি ম্যাচ খেলেও আর্জেন্টিনা ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করেছে এবং দল ভালো অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, মিশরের কোচ হোসাম হাসান আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুললেও সেটি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন স্কালোনি।
তিনি বলেন, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এ ধরনের কথা অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। ১৯৮৬ সালে যখন দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, তখনও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। রেফারিরা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিয়ম পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন এবং ম্যাচে সেই নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে রোববার(১২ জুলাই) সকালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে পেনাল্টির সুযোগ এলে বলটি শেষ পর্যন্ত মেসির পায়েই থাকবে কি না সেটি নির্ভর করবে অধিনায়কের নিজের সিদ্ধান্তের ওপর।


