তেলের এই সংকটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অফিস-আদালতের সময় কমানো হলেও রাজধানীর সড়কে সয়লাব প্রায় ১৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। সারাদেশে এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ।
কয়েকজন অটোরিকশাচালক জানান, আমরা গরিব মানুষ, আর কী করে খাব? এটি ছাড়া আর কোনো কর্ম আমরা শিখিওনি, জানিও না। আমরা জানি এটা অবৈধ। এখন কী করব? পেটের দায়ে করছি।
প্রতিটি অটোরিকশা দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ করে গড়ে ৬ থেকে ৯ ইউনিট। সেই হিসেবে প্রতিদিন সারাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এই খাতে। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭২০ গিগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন যে হাজার হাজার টন আমদানিকৃত ফার্নেস অয়েল ও গ্যাস পুড়ছে তার বড় অংশই অপচয় হচ্ছে অবৈধ চার্জিং সিন্ডিকেটের কারণে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও সবুজবাগসহ বেশ কয়েকটি রিকশার গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, অবৈধভাবে চলছে বৈদ্যুতিক চার্জের ব্যবস্থা। এক মিটারেই চার্জ দেয়া হচ্ছে কয়েকটি গ্যারেজের রিকশা। কোথাও আবার সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে নেয়া হচ্ছে অবৈধ সংযোগ। অন্যদিকে, এসব গ্যারেজ টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় নেতাদের মাসে বড় একটা চাঁদা দেয়ার কথাও স্বীকার করছেন মালিকরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান সংকটে ক্রমেই চাপ বাড়বে বিদ্যুতের ওপর। তবে অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে এর চার্জিং পদ্ধতি একটি শৃঙ্খলায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ডেসকো-ডিপিডিসি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধতা আনতে পারত। মিটার দিতে পারত। তাদের কাছ থেকে যদি চার্জটা (মূল্য) নেয়া যায়, তাহলে এই টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যেত।


