বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬
27 C
Dhaka
Homeআইন আদালতএসপি পদে নিয়োগ পেলেন হত্যা মামলার আসামি, চ্যালেঞ্জ করে রিট

এসপি পদে নিয়োগ পেলেন হত্যা মামলার আসামি, চ্যালেঞ্জ করে রিট

প্রকাশ: মে ৭, ২০২৬ ৮:৫৩

দুই হত্যা মামলার আসামিকে ফেনীর এসপি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে রিটটি করেছেন।

রিট আবেদনে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের সাম্প্রতিক নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপ-সচিব এবং ফেনীর বর্তমান পুলিশ সুপারকে (এসপি) এতে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-পশ্চিম) উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি দীর্ঘসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

রিটে দাবি করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে তাকে আসামি করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, যুবদল নেতা মিজানুর রহমানকে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় এবং পরে পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে ও পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তাকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেখানো হয়। একই ঘটনায় রেজাউল করিম নামের আরেক ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় মো. আইনাল হকের দায়ের করা হত্যা মামলায় মাহবুব আলমকে আসামি করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর দায়েরকৃত আরেকটি হত্যা মামলায়ও তিনি ৩ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই অবস্থায় হত্যা, গুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পদে বহাল রাখা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। এতে আইনের শাসন, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ক্ষুণ্ন হয় বলেও রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বিচারাধীন মামলার আসামি হিসেবে মাহবুব আলমের দায়িত্ব পালন তদন্ত প্রক্রিয়া, সাক্ষী ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে জনগণের পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় রিট আবেদনে ফেনীর এসপি হিসেবে মাহবুব আলম খানের নিয়োগ বা পদায়ন কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি ছাড়াও তার পদায়ন আদেশ অবিলম্বে বাতিল বা স্থগিত, চলমান হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফেনীর এসপি হিসেবে তার দায়িত্ব পালন স্থগিত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।

রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের স্বার্থে গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি পদে বহাল রাখা উচিত নয়। জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর