ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগত এই জলপথ ‘সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত’ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রণালি খোলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তিনি জানান, যতক্ষণ না পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সম্পন্ন হবে ততক্ষণ ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কখনও এই প্রণালি বন্ধ করবে না। খবর আল জাজিরার।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে প্যারিসে ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃস্থাপনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথ আংশিক বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়।
বিশ্বনেতারা প্রণালি খোলার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এটি ‘স্থায়ী ও কার্যকর’ হতে হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা সীমাবদ্ধতার বিরোধিতা করেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ আন্তর্জাতিক মিশনে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে এর জন্য জাতিসংঘের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে ‘সঠিক পথে অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থার প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, প্রণালি খোলার ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপদ নৌ চলাচলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ব্যবহার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে প্রণালি খোলার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।


