আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জাহাজটির একটি ছবি শেয়ার করে সেন্টকম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এই বিশাল রণতরীটি মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে মোতায়েন থাকা জাহাজগুলোর সঙ্গে যোগ দেবে, নাকি অন্য কোনো রণতরীকে প্রতিস্থাপন করবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
বর্তমানে এই অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ফোর্ড বর্তমানে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। নতুন করে ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এই অঞ্চলে পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধ আরও জোরালো করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওভাল অফিসে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, আমি কেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাব? এটি একটি বোকামি পূর্ণ প্রশ্ন। প্রথাগত পদ্ধতিতেই আমরা তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছি। তাহলে পারমাণবিক অস্ত্রের কী প্রয়োজন? পৃথিবীর কারও জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি থাকা উচিত নয়।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে বিষয়টিকে ইরানের পারমাণবিক হুমকির সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, তেলের দাম নিয়ে চিন্তার চেয়ে একটি পারমাণবিক শক্তিধর ইরানকে থামানো বেশি জরুরি। আমি ভেবেছিলাম তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে উঠে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে সব জাহাজ এখন মার্কিন তেল নিতে এখানে আসছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না। একটি ‘সেরা চুক্তির’ অপেক্ষায় আছেন। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছালেই কেবল এই নৌপথ খুলে দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি চাই না যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইরান তেল বিক্রি করে প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার আয় করুক। আমিই এই পথ বন্ধ করে রেখেছি। যদি তারা সমঝোতায় না আসে, তবে আমি সামরিকভাবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাব।


