বুধবার, মে ১৩, ২০২৬
বুধবার, মে ১৩, ২০২৬
30 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকইরান ইস্যুতে চীনের কোন সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রেরঃ ট্রাম্প

ইরান ইস্যুতে চীনের কোন সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রেরঃ ট্রাম্প

প্রকাশ: মে ১৩, ২০২৬ ১০:২৮

ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি সংকটের মধ্যেই চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে চীনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের।

বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে তার।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে চীনের কোনও সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বেইজিং যাত্রার আগে মঙ্গলবার (১২ মে) সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না, ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনও সাহায্য দরকার’। তিনি আরও দাবি করেন, ‘একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে।’

ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির কারণে তার জনপ্রিয়তা চাপে রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো। এতে তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়েছে।

চীন সফরের আগে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প কিছুটা পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হবে। সত্যি বলতে, শি জিনপিং এ বিষয়ে তুলনামূলক ভালো ছিলেন’। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে কথা হবে। সত্যি বলতে, ইরান তার মধ্যে বড় বিষয় নয়, কারণ ইরানকে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’

ট্রাম্প বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছাবেন। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর তিনি হোটেলে যাবেন। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং পরদিন শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন তিনি।

গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের নেতাদের মধ্যে এটি হবে সরাসরি প্রথম বৈঠক। এছাড়া ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার দ্বিতীয় চীন সফর।

চলতি বছরের শেষ দিকে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরেরও কথা রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন, চীনের সঙ্গে এমন কিছু চুক্তি করতে যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি খাদ্যপণ্য ও উড়োজাহাজ কেনে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আলোচনা হবে বাণিজ্য নিয়েই।’

এই সফরে তার সঙ্গে যাচ্ছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন ব্যবসায়ী নেতা। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক মতপার্থক্য কমাতে কাজ করবে।

এর আগে গত বছর ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর পর যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, চীন পাল্টা বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তা আরও তীব্র হয়। পরে গত অক্টোবরে এক বছরের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ।

এদিকে চীনের দাবি করা স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির মার্কিন পরিকল্পনাও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বেইজিং এ পরিকল্পনায় অসন্তুষ্ট। গত সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ নিয়েও তিনি শির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বিশ্বের শীর্ষ চিপ নির্মাতা হওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে তাইওয়ানের গুরুত্ব বেড়েছে। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে তাইওয়ান থেকে বেশি পণ্য আমদানি করেছে। চীন সফরে রওনা হওয়ার আগেই ট্রাম্প এটিকে সফল সফর হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক বহু দশক ধরে দারুণ থাকবে। আপনারা জানেন, বছরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট শি এখানে আসবেন। সেটা হবে দারুণ বিষয়। শুধু আফসোস, হোয়াইট হাউসের বলরুম তখনও তৈরি হবে না।’

ট্রাম্পের চীন সফরের কয়েক দিন আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেইজিং সফর করেন। যদিও ট্রাম্প বলছেন, চীনের সহায়তা প্রয়োজন নেই, তবু মার্কিন কর্মকর্তারা চীনকে তেহরানের ওপর প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। চীন এখনও ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা এবং যুদ্ধ চলাকালেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রকাশ্যে চীনকে আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ভূমিকা রাখে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানান, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে, কোনও দেশ যেন ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলের জন্য টোল আদায় করতে না পারে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের অভিযোগে একাধিক চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিং এসব নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের কোম্পানিগুলোকে তা উপেক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর