শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
26.5 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকভারতের ‘ককরোচ পার্টির’ নতুন চ্যালেঞ্জ মোদিকে 

ভারতের ‘ককরোচ পার্টির’ নতুন চ্যালেঞ্জ মোদিকে 

প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬ ১০:৪৯

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)’ নেতারা বলেছেন, সরকারের কাছ থেকে সুবিধা আদায়ে সক্ষম হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের অন্যতম নেতা অনশন ভেঙেছেন। তবে তেলাপোকা পার্টির সমর্থকরা এ আন্দোলন থেকে সরে যাবে না। খবর দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা পিছু হটব না।’

ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অসঙ্গতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে কেন্দ্র করে ভারতের সড়কে বিক্ষোভ করছে হাজারো তরুণ তরুণী। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আন্দোলনের অন্যতম নেতা ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন ধরে অনশন করায় তার ২০ পাউন্ড ওজন কমেছে। ভারতের রাজধানীতে একটি প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার। এর কয়েক দিন আগে পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পুলিশ ওই মিছিল আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ১২০ জন পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন।

ওয়াংচুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, হাসপাতালে সরকারি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করেছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হবে না, কর্মকর্তারা এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর তিনি অনশন ভেঙেছেন।

ওয়াংচুকের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে তার বেডের পাশে সরকারি কর্মকর্তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বছর মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অসঙ্গতির জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সংসদে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ভারতে ভালো বেতনের বেসরকারি চাকরির স্বল্পতার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাই লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য সরকারি কলেজে আসন ও চাকরি পাওয়ার উপায়। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের কারণে অনেক পরীক্ষা বাতিল করা হয়। কিছু পরিবার আগেভাগেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়ার জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করে, যা প্রতারক চক্রগুলোর একটি লাভজনক ব্যবসা।

এ বছর মে মাসে ২০ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক পর্যায়ের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে জুনে তাদের আবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ ভারতজুড়ে মানুষের মনে সাড়া ফেলেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার বিচার করতে দ্রুত বিচার আদালত স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের তরুণদের কল্যাণ তার কাছে অগ্রাধিকার।

আরেকটি ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, বন্ধুরা, আমি জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সামান্য বিষয় নয়; এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

নয়াদিল্লি-ভিত্তিক নীতি বিষয়ক সংস্থা পলিসি মঙ্কসের ভাস্কর পান্ত বলেন, সরকার শুরুতে বিক্ষোভকারী নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের পাঠায়নি। এতে এখন তারা উভয় সংকটে পড়েছে। কারণ বিক্ষোভকারী নেতারা ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

ভাস্কর পান্ত আরও বলেন, কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়া দুর্বলতার লক্ষণ, আর তা প্রত্যাখ্যান করা অবজ্ঞার লক্ষণ। এই সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি করা হবে, দাবির চাপ ততই মন্ত্রীর কাছ থেকে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দিকে সরে যাবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর আঁকা গ্রাফিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সপ্তাহে প্রতিদিন জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ভারতীয় এ নেতাকে উপহাস করা প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসেন। নয়াদিল্লি ছাড়াও বেঙ্গালুরু ও মুম্বাইয়ের মতো অন্যান্য বড় শহরগুলোতেও বিক্ষোভ হয়েছে।

আন্দোলনের সমর্থকদের পাঠানো খাবারের অর্ডার বিতরণকারী ডেলিভারি রাইডার প্রশান্ত মালিক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের লাঠিচার্জের ছবিগুলো বিক্ষোভকারীদের প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রশান্ত বলেন, ‘এরা বাচ্চা, সন্ত্রাসী নয়। তারা নিজেদের অধিকারের জন্য লড়ছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর