বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকইরানে হামলা করতে ট্রাম্পের অনুমতির দরকার নেই: নেতানিয়াহু

ইরানে হামলা করতে ট্রাম্পের অনুমতির দরকার নেই: নেতানিয়াহু

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৯:০৫

ইরানে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে অনুমতি চাইবেন না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তিনি জানান, ইরানে কী পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তা ট্রাম্পকে তিনি জানাবেন, তবে হামলার জন্য তার অনুমতি চাইবেন না। খবর আরব নিউজের

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে জানাব, আমরা কী করতে চাই। কিন্তু ইরানে হামলার জন্য তার কাছ থেকে সবুজ সংকেত চাইব না। আমি একটি নির্দেশনা জারি করেছি- ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান।’

বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে সংঘাত শুরু করার ধারণায় আপত্তি জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে প্রস্তুত ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনা ছিল।

দক্ষিণ ইসরায়েলের দিমোনা শহরে এক নির্বাচনি সমাবেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইরান আমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, আমরা তাদের থামিয়ে দিয়েছি। তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে চেয়েছিল, আমরা তাও থামিয়ে দিয়েছি, তবুও তারা থামছে না। তাই এর অবসানের একটাই উপায় হলো- এই শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, মোসাদ এবং আমাদের সব নিরাপত্তা সংস্থাকে এই নির্দেশনা দিয়েছি।’ তবে এই নির্দেশনা কখন বা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।

সোমবার ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান একটি মহড়া চালায়। ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, যুদ্ধবিমানগুলো ইরান সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে গিয়েছিল। ইসরায়েলের নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এই মহড়া অভিযান চালানো হয়। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েলি নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।

অ্যাক্সিওস জানায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এ অভিযানকে অস্বাভাবিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ইরানকে নিরুৎসাহিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে এ অভিযান থেকে ভুল হিসাব-নিকাশের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত, যার ফলে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারত এবং আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারত।

সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অভিযান চালানোর আগে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানিয়েছিল। ইসরায়েল একে প্রশিক্ষণ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার’ এবং নির্বাচনের আগে ইরানকে ইসরায়েলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখা।

ইসরায়েলের বিরোধী নেতার সমালোচনা
এদিকে, নির্বাচনের আগে ইরানকে নিয়ে ধারাবাহিক হুমকি দেয়ার পর বুধবার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তাকে বিপজ্জনকভাবে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা।

দেশটির মধ্যপন্থী বিরোধী নেতা, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে বেপরোয়াভাবে নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দিতে শুনে আমি সত্যিই হতবাক। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে নির্বাচনি সার্কাসে পরিণত করছেন। ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য এই ব্যক্তিই দায়ী।’

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর