নীল ইল-আখবর জানায়, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. বদর আবদেল-আতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) টেলিফোনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অভিনন্দন পৌঁছে দেন। একই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনে তার দলের বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায়ও অভিনন্দন জানান।
এ ছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান ড. বদর আবদেল-আতি। এমাসে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনের এক বছরের সভাপতিত্বকালে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা, জাতিসংঘ সংস্কারের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারে সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
টেলিফোন আলাপে দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ অব্যাহত রাখা, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো কার্যকর করা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ওষুধশিল্প, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক, মৎস্যচাষ এবং চামড়াশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানো হলে দুই দেশের বাণিজ্যিক বিনিময়ের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনেও এটি ভূমিকা রাখবে।
আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতিও উঠে আসে। ড. বদর আবদেল-আতি আঞ্চলিক সংকট ও সংঘাতের উত্তেজনা কমাতে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মিশরের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থেকে অঞ্চলকে রক্ষা করতে মিশর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।


