শুক্রবার (৮ আগস্ট) দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাটিপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশে সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তুহিন ওই গ্রামের মো. হাসান জামাল ও সাবিহা খাতুন দম্পতির সন্তান। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তুহিন-মুক্তা আক্তার দম্পতির দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। বড় ছেলের নাম তৌকির (৭) ও ছোট ছেলের নাম ফাহিম (৩)।
এর আগে, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বাদ জুমা তুহিনের প্রথম জানাজা হয়। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এ সময় তাকে শেষবারের মতো দেখতে শোকাহত শত শত মানুষ ভিড় করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, মাগরিবের পর নিজের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তুহিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তুহিনেরা পাঁচ ভাই। তারা প্রত্যেকে কাজের জন্য এলাকার বাইরে থাকেন। তারা কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তুহিন খুব ভালো ছেলে ছিলেন। নিয়মিত মা-বাবার সেবা করতেন, খোঁজখবর নিতেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এলাকার বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, তুহিন সাংবাদিকতা পেশায় খুব ভালো করেছিলেন। অল্প সময়েই তিনি বেশ নাম-ডাক অর্জন করেন। তুহিন মা-বাবার সংসারের হাল ধরেছিলেন। এখন তার মা-বাবার পাশাপাশি স্ত্রী মুক্তা আক্তারও দুই শিশুসন্তান নিয়ে কষ্টে পড়ে যাবেন। সরকার যদি সহায়তা করে, তাহলে তুহিনের পরিবারের জন্য খুব ভালো হবে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর নগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করেন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা। তারা দেশি অস্ত্র নিয়ে এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করেছিলেন। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন। তখন আসাদুজ্জামানকে ধাওয়া করে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।


