বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
বুধবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
17 C
Dhaka
Homeরাজনীতিযারা মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তাদের হাতে বাংলাদেশের কোনো নারীই নিরাপদ নয়।

যারা মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তাদের হাতে বাংলাদেশের কোনো নারীই নিরাপদ নয়।

প্রকাশ: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৫:১৫

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি দল একদিকে নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলছে, অথচ অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তুলছে। যারা এখনই মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তাদের হাতে বাংলাদেশের কোনো নারীই নিরাপদ নয়।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যশোর ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় জোটের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা নিজেদের আদর্শ প্রচার করতে পারে, অথচ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রচারে বাধা দেয়—এটা কোন ন্যায়বিচার? কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কে আপনি, একজন মায়ের গায়ে হাত দেওয়ার? এটি পুরো জাতির মায়ের ওপর আঘাত, যা আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। যশোরেও এমন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিন। যারা নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা দেশকেও নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করব, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সব দাবি যৌক্তিক। আমরা প্রত্যেক মানুষের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেব। সেই সুযোগটা আসবে জনগণের হাত দিয়ে। উসিলা জনগণের হাতে ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বস্তা পচা রাজনীতি পরিহার করে খাঁটিভাবে করতে হবে রাজনীতি। তার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন চায়। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি। ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতে যাবে, ইনশাআল্লাহ। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী না হলে সরকার গঠন করে কোনো লাভ হবে না। আগে ভিত্তি হলো ‘হ্যাঁ’ ভোট।

জামায়াত আমির বলেন, আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন নিজেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য। জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য, তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল তা বাস্তবায়নের জন্য, ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির যাঁতাকল থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন—আমরা ক্ষমতায় গেলে এসব থেকে মুক্ত থাকব, তার প্রমাণ কী? হ্যাঁ, প্রমাণ আছে। ২০০১-০৬ পর্যন্ত আমাদের দুজন ব্যক্তি তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তারা হাতের দশটি আঙুল পরিষ্কার রেখেছিলেন। স্বজনপ্রীতিতে জড়াননি। তারা শুধু সৎই ছিলেন না, তারা স্মার্টও ছিলেন। কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব তৈরি করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে দলের নেতারা অন্যায়ের সামনে মাথানত না করে হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়াতে পারে, সেই দলের লোকেরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। এই দলটি তিলে তিলে জ্বলে জ্বলে পরীক্ষিত হয়ে গেছে। যারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা শিক্ষা পেয়ে গেছে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে কী হলো? অনেকের চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তারা অন্যায় আচরণে জড়িয়ে গেছে। এখানে কেউ চাঁদাবাজি করে? জানি আপনাদের এখানেও চাঁদাবাজি হয়, মামলাবাজি হয়? আমরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না। যে কারও প্রতিকার চাওয়ার অধিকার আছে। তবে সাবধান, একজনকেও অন্যায়ভাবে আসামি করবেন না।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের আটটি মামলার আসামি মাত্র একজন। আমাদের মামলার সর্বোচ্চ আসামি ৯৮ জন। কিন্তু আমাদের কোনো কোনো ভাই হাজার হাজার মামলা করছেন, এগুলো মানুষকে হয়রানি করার শামিল। আমরা আশা করি, এসব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে চাঁদা নেইনি, টেম্পোস্ট্যান্ডের দখল নিয়ে ঝগড়ায় জড়াইনি, কোনো মা-বোনের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করিনি। যে দল তার সহকর্মীদের সামলে রাখতে পারে, তারাই বাংলাদেশকে সামলে রাখতে পারে। যারা নিজের দলের কর্মীদের সামলে রাখতে পারে না, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়, তারা যত বড় বা মাঝারি দলই হোক।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশ গড়ার আগে দলটাকে ভালো করে গড়ুন, তাহলেই দেশও লাভবান হবে। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো সহযোগিতা লাগলে আমরা করব। আগে শৃঙ্খলায় আসুন।

জামায়াত আমির বলেন, হাজারো নির্যাতন, গুম ও খুন চালানো হয়েছে আমাদের ওপর। আমরা যখন শহীদ পরিবারে যাই, তখন দেখি—শিশু সন্তান দেয়ালে বাবার ছবি এঁকে বলে, ‘বাবা, তুমি কখন আসবে?’ বাংলাদেশকে আবার কেউ যদি সেদিকে নিতে চায়, তাহলে আমরা রুখে দেব। কালো অধ্যায় ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

যুবকদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যুবকরা জেগে উঠেছে। তারা বলেছে—আমরা ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা তা জানিয়ে দিয়েছে। আর যেসব (বিশ্ববিদ্যালয়ে) নির্বাচন হবে, তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে নিজেকে গণতন্ত্রের উদ্ধারকারী বলে, অথচ তারাই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে দেয় না। আশ্চর্য ব্যাপার এক অঙ্গে কত রূপ!

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যা বলব, তা যেন করতে পারি। আজ আমাদের মায়েদের বলা হয়—ভোট কাকে দেবেন? তারা বলেন, জামায়াতকে দেব। কেন দেবেন? উত্তরে তারা বলেন, জামায়াতের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে, আমিও নিরাপদ থাকব। একজন মডেলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কাকে ক্ষমতায় দেখতে চান? তিনি বলেন, জামায়াতকে চাই। জিজ্ঞেস করা হলো, তাদের কোন দিকটা ভালো লাগে? তিনি বলেন, সারা জামায়াতই ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, যদি বোরকা পরতে হয়, তাহলে পরব। আমরা জামায়াতেই ভরসা পাই, নিরাপত্তা বোধ করি।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা একা দেশ চালাব না। ১১টি দল একত্রিত হয়েছি। এই জাতিকে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দেব না। বেকার ভাতা দিয়ে বেকারের লজ্জাজনক পরিচয় দিতে চাই না। আমরা তাদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলব। দক্ষতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। বেকার ভাতা দেওয়া মানে বেকারত্বকে উৎসাহিত করা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মায়েদের জন্য চলাচলের বিশেষ বাস ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা হবে। দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় বিমানকর্মীরা প্রশ্ন করেন, নিজের ধর্ম অনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতা থাকবে কি না? আমি বলি, হ্যাঁ। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন, সবাই নিজের ধর্ম অনুযায়ী স্বাধীনভাবে পোশাক পরতে পারবে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, সিন্ডিকেটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। সিন্ডিকেট পুরো দেশকে অবশ করে ফেলেছে। চাঁদাবাজদেরও সম্মানিত করব, সমাজে লজ্জাজনক পরিচয়ে রাখতে চাই না। কোনো দুর্বৃত্ত যদি কারও ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, আপনারা কি বসে থাকবেন? তরুণরা জেগে থাকলে বাংলাদেশ জেগে থাকবে। যে তরুণরা বুকের রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনেছে, তারাই নতুন বাংলাদেশে পরিবর্তন নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।

যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. গোলাম রছূলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর