শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার পর সকালে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর প্রায় ৯ শতাংশ কমে গেছে। মূলত গালফস্ট্রিমের তৈরি সর্বশেষ বিমানটির সার্টিফিকেশন ইস্যু নিয়ে কানাডার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এই হুমকি দেন ট্রাম্প।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যদি গালফস্ট্রিম বিমানের সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত পরিস্থিতি অবিলম্বে সংশোধন করা না হয়, তাহলে আমি কানাডায় তৈরি যেকোনো এবং সমস্ত বিমানের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, যতক্ষণ গালফস্ট্রিম বিমানগুলো কানাডায় ছাড়পত্র না পাচ্ছে, ততক্ষণ তিনি বোম্বার্ডিয়ার গ্লোবাল এক্সপ্রেসসহ কানাডায় তৈরি সমস্ত বিমানকে ‘অপ্রত্যয়িত’ রাখবেন।
ট্রাম্পের এই পোস্টে ব্যক্তিগত জেটের ক্রেতা, মালিক এবং বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বর্তমানে চলাচলরত বিমানগুলোকে বাতিল করার কথা বলছেন না, বরং নতুন বা ভবিষ্যতে আসার অপেক্ষায় থাকা বিমানের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি হতে পারে। তা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক বিমান চলাচল আইনের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনেক ক্লায়েন্ট ইতিমধ্যেই বোম্বার্ডিয়ার বিমান কেনা বা মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই হুমকি কার্যকর হলে মার্কিন এয়ারলাইন্স ও ডেল্টা এয়ার লাইনসের মতো বড় ক্যারিয়ারগুলো বিপাকে পড়বে। কারণ তারা তাদের আঞ্চলিক পরিষেবার জন্য কানাডিয়ান তৈরি বিমানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা ‘সিরিয়াম’-এর মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ হাজার ৪২৫টি কানাডিয়ান তৈরি বিমান নিবন্ধিত রয়েছে।
এক বিবৃতিতে বোম্বার্ডিয়ার জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের এই পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কানাডিয়ান সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি তিন হাজার কর্মী নিয়োগ করেছে এবং তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার মার্কিন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ এড়াতে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।


