শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
শনিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
17 C
Dhaka
Homeজীবনযাপনকিডনি রোগীর জন্য যেসব সবজি স্বাস্থ্যকর হলেও ক্ষতিকর

কিডনি রোগীর জন্য যেসব সবজি স্বাস্থ্যকর হলেও ক্ষতিকর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ২:৪৮
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৯:১০

স্বাস্থ্য সচেতনতা বরাবরই ভালো দিক। তবে বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় সামাজিক প্রবণতা হয়ে উঠেছে। সবজি বেশি খাওয়া, ক্লিন ইটিং, ডিটক্স ডায়েটের মতো ধারণাগুলো এখন অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে―পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের মতো খাদ্যতালিকা তৈরি করছেন।

পুষ্টিবিজ্ঞান স্পষ্টভাবে বলছে, সব সবজি সবার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিনের কিডনি সমস্যা (CKD) বা কিডনি স্টোনে ভুগছেন। তারা অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করে নিয়মিত এমন কিছু সবজি গ্রহণ করছেন, যা কিডনির ওপর অতিরিক্ত মেটাবলিক চাপ সৃষ্টি করে রোগকে আরও জটিল করে। এ ব্যাপারে লিখেছেন রাজধানীর প্র্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটির পুষ্টিবিজ্ঞান শিক্ষার্থী জান্নাত প্রেমা।

পুষ্টিবিজ্ঞানের ব্যাখা:
কিডনির প্রধান কাজ হচ্ছে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম, ফসফরাস, নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য, ইউরিক অ্যাসিড ও অক্সালেট বের করে দেয়া। কিডনি দুর্বল হলে এই উপাদানগুলো শরীরে জমে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি করে। তাই কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে খাবারের গুণগত মানের পাশাপাশি রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  •  উচ্চ অক্সালেট যুক্ত সবজি: পালং শাক, বিটরুট, ঢেড়স, কচুশাক দীর্ঘদিন গ্রহণের ফলে, বিশেষ করে যাদের কিডনিতে পাথর আছে তাদের জন্য ঝুঁকির কারণ। তাছাড়া অক্সালেট ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন তৈরি করে।
  •  উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত সবজি: আলু, মিষ্টি আলু, টমেটো, লাউশাক অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে যাদের কিডনি দুর্বল, তাদের পটাশিয়াম শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে হাইপারকালেকিয়া হয়। এছাড়াও হৃদস্পন্দনের মারাত্মক সমস্যা হয়।
  •  পিউরিনসমৃদ্ধ সবজি: মাশরুম, ফুলকপি, মটরশুঁটি ও পালং শাকে পিউরিন থাকে। যা শরীরে ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। কিডনি ঠিকমত কাজ না করলে এই ইউরিক অ্যাসিড জমে গিয়ে কিডনির প্রদাহ ও পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।
  •  ফসফরাস বেশি থাকা সবজি: মাশরুম, ডাল জাতীয় সবজি, ফুলকপি অতিরিক্ত গ্রহণের কারণে কিডনি রোগির ক্যালসিয়াম ফসফরাস ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে হাড় দুর্বল হয় এবং রক্তনালিতে ক্যালসিফিকেশন দেখা দেয়।

অর্থাৎ, কোন খাবার কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন, খাবারের পরিমাণ এবং রান্নার পদ্ধতির ওপর। এই বিষয়গুলো উপেক্ষা করে শুধু ‘সবজি মানেই ভালো’ ভাবা আজকাল অনেক মানুষকে নিজেদের অজান্তেই আরও বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ছাড়া স্বাস্থ্য সচেতনতা অনেক সময় আত্মঘাতী হয়ে ওঠে। কিডনি রোগ বা কিডনিতে পাথর থাকলে নিজে নিজে ডায়েট ঠিক না করে বরং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচনই একমাত্র নিরাপদ পথ। আর মনে রাখতে হবে, সচেতন সিদ্ধান্ত সুস্থ শরীর।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর