শুধু ক্লান্তি অনুভব করা নয়, ঘুমের অভাব স্বাস্থ্য, মেজাজ এবং কাজের সক্ষমতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ঘুমের মান কমার লক্ষণ
- সকালে ঘন ঘন মাথাব্যথা
অপর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের মাত্রা কমায়, যা সকালে মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। - একাগ্রতা কমে যাওয়া ও স্মৃতি দুর্বলতা
ঘুম আমাদের মেমরি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হঠাৎ সহজ তথ্য মনে না থাকার সমস্যা মানে আপনার ঘুমে কোনো বিঘ্ন ঘটছে। - জাঙ্ক ফুডের আকাঙ্ক্ষা বাড়া
ঘুমের অভাবে ক্ষুধা হরমোন ঘ্রেলিন বেড়ে যায় এবং লেপ্টিন কমে যায়, ফলে মিষ্টি ও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। - মেজাজ বদল ও চিঁচিঁ পরিবেশ
অপর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে প্রভাবিত করে। ফলে চিঁচিঁ করা, উদ্বেগ বা মেজাজ বদলের সমস্যা দেখা দেয়। - ত্বকের স্বাস্থ্য খারাপ হওয়া
ঘুমের অভাব ত্বক শুষ্ক, একরঙা এবং সময়ের চেয়ে আগে বলিরেখা তৈরি করতে পারে। - চাপ সামলাতে অসুবিধা
প্রযুক্তি এবং জীবন চাপ সামলাতে আমাদের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দরকার। ঘুম কমে গেলে ছোট ছোট সমস্যায়ও আমরা খুব বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ি। - যথেষ্ট ঘুম হলেও ক্লান্তি
কিছু মানুষ পর্যাপ্ত ঘুম নেয় কিন্তু তবুও শক্তি কম অনুভব করে। কারণ ঘুমের ধাপগুলি সঠিক নয় বা গভীর ঘুম কম হচ্ছে। - রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমা
ঘুমের অভাবে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়, ফলে সর্দি, জ্বর বা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। - পাচনতন্ত্রের সমস্যা
ঘুম কম থাকলে গ্যাস্ট্রিক হরমোন ও অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা প্রভাবিত হয়, যা পেট ফোলা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করে।
ভালো ঘুমের জন্য করণীয়
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান।
রাতের ৪-৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে।
ঘুমের কক্ষ অন্ধকার, শান্ত এবং শীতল রাখার চেষ্টা করুন।
ঘুমের আগে এক ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম কমান।
ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন অনুশীলন করুন।
সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘুম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ভালো ঘুম শুধুই বিশ্রাম নয়, এটি আপনার স্বাস্থ্য, মন এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তি। ছোট ছোট লক্ষণগুলোকে অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। সুতরাং নিজের ঘুমের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
সূত্র: এনডিটিভি


