মিরাজ বলেন, সাকিব ভাই থাকলে একজন অধিনায়কের জন্য টিম কম্বিনেশন তৈরি করা সহজ হয়। ব্যাটার-বোলারের ভারসাম্য বজায় রাখা যায় এবং খেলা আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
সাকিব একজন অলরাউন্ডার হিসেবে মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে সক্ষম। তার ওপর পুরো ১০ ওভার বোলিং করানো যায় বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে। ফলে সাকিব না থাকলে দলের ব্যাটিং বা বোলিংয়ে ঘাটতি তৈরি হয়। মিরাজের মতে, ব্যাটার বেশি খেলাতে গেলে বোলারের ঘাটতি হয়, আবার বিশেষজ্ঞ বোলার বেশি খেলালে ব্যাটার কমে যায়। সাকিব থাকলে সব মিলিয়ে সমাধান সহজ হয়।
ক্রিকেটার থাকাকালীন সাকিব আওয়ামী লীগ সরকারের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, ওই সময় বিদেশের মাটিতে লিগ খেলায় ব্যস্ত থাকার কারণে এসব মামলা ভিত্তিহীন। কেউ বিশ্বাসও করেন না যে সাকিব হত্যার মতো কাজ করতে পারে। অতীতের কিছু সময় বোর্ড পরিচালকরা সাকিবকে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যেতেন, এমনকি সমর্থকরা মাঠে তার প্লেকার্ডও দেখাতে পারেননি।
চলতি বছরের শুরুতে হঠাৎ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নেয় তাকে দলে ফিরানোর। সেই অংশ হিসেবে সাকিবের মামলার কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে।
মিরাজ বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সাকিব ভাইয়ের ব্যাপারে সবাই পজিটিভ। প্রক্রিয়াগুলো সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারলে বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে। অধিনায়ক হিসেবে এমন একজন খেলোয়াড় থাকলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, সাকিবের আসা পুরোপুরি ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত। যদি ইস্যু সমাধান হয়, তাহলে খেলাটা সহজ হয়ে যাবে।
বিসিবি বছরের শুরুতে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সিরিজেই সাকিবকে দলে ফিরানো হবে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১১ মার্চ থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তবে সরকারের অনুমোদন না হওয়ায় সিরিজে সাকিবের খেলার সম্ভাবনা বর্তমানে কম।
সাকিব হত্যা মামলায় খালাস পেয়েছেন, তবে অন্যান্য মামলা বিশেষ করে শেয়ারবাজারে কারসাজির মামলায় এখনো মোকাবিলা করতে হবে। তাই পাকিস্তান সিরিজে তার খেলার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।


