ইফতারে বিশেষ করে ভাজাপোড়া খাবার অনেকের না হলে চলেই না। তবে যে যেটিই পছন্দ করুক না কেন, ইফতারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ছোলা। যা প্রায় সবারই পছন্দের।
রমজানে ছোলার প্রতি আলাদা এক ধরনের আগ্রহ থাকে রোজাদারদের। বলা যায়, এ সময় ছোলা খাওয়া যেন অলিখিত এক রীতিতে পরিণত হয়। এ জন্য রোজায় প্রতিদিনই বাসায় ছোলা তৈরি করা হয়। ছোলা প্রতিদিন খাওয়া হলে এটি ঠিক কীভাবে বা কোন পদ্ধতিতে খেলে প্রোটিন ও পুষ্টি বেশি, তা অনেকেই জানেন না। আর ছোলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন পুষ্টিবিদ ফৌজিয়া আহমেদ অনু। তিনি বলেন, ইফতারে ছোলা খাওয়া আর পুষ্টি গ্রহণ―দুটি এক বিষয় নয়। পুষ্টি গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম মানা জরুরি। তাহলে পরামর্শগুলো জেনে নেয়া যাক-
- আগে ভিজিয়ে রেখে খাওয়া:
অনেকেই সরাসরি ছোলা সেদ্ধ করে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেন। এতে শরীর ছোলার সব প্রোটিন ব্যবহার করতে পারে না। এ জন্য আগে থেকে ভিজিয়ে রাখার কথা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে ভিজিয়ে রেখে তারপর খাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হলে ওই ছোলা হজম সহজ হয়, গ্যাস কম হয়, শরীরে প্রোটিন ভালোভাবে শোষিত হয় এবং মিনারেল (যেমন আয়রন) বেশি কাজে লাগে। তবে রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখা পানি ফেলে দিতে হবে। - অঙ্কুরিত ছোলা পুষ্টিকর:
হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে আগে থেকে ছোলা ভিজিয়ে রেখে তা অঙ্কুরিত করে নিন। অঙ্কুরিত ছোলায় প্রোটিনের মান বাড়ে, আয়রন শোষণ বাড়ে, ভিটামিন সি তৈরি হয় এবং হজম আরও সহজ হয়। অর্থাৎ ছোলা জীবন্ত হয় এবং এতে শরীরের জন্য সহজ হয়। - ভাজা ছোলা, প্রোটিন ঘন হয়:
ভাজা ছোলা বা ভুনা ছোলা হচ্ছে প্রোটিন স্ন্যাকের ভালো উৎস। কেননা, এতে পানির অংশ কমে যাওয়ায় প্রোটিন ঘন হয়ে থাকে। সহজে বহনযোগ্য ও পেট ভরায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হয়। - লেবু দিয়ে খেলে আয়রন বেশি মিলে:
ছোলায় আয়রন থাকলেও তা সহজে নিতে পারে না শরীর। এ জন্য ছোলার সঙ্গে টমেটো ও কাঁচা মরিচ দিলে আয়রন শোষণ বেশ বেড়ে যায়। - ছোলার সঙ্গে ভাত বা রুটি যোগ করলে পরিপূর্ণ প্রোটিন:
শুধু ছোলা খাওয়া হলে এতে কিছু প্রোটিন উপাদান কম পাওয়া যায়। তবে ছোলা যদি ভাত বা রুটি দিয়ে একসঙ্গে খাওয়া হয়, তাহলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। অর্থাৎ কমপ্লিট প্রোটিন তৈরি হয়। - সেরা উপায় কী:
পুষ্টিবিদ ফৌজিয়া আহমেদ অনু বলেন, ছোলা খেতে চাইলে ভালো উপায় হচ্ছে আগে থেকে ভিজিয়ে রেখে দেয়া। সম্ভব হলে অঙ্কুরিত করে নিয়ে তারপর রান্না করা। এ সময় লেবু যোগ করা যেতে পারে। চাইলে খাওয়ার সময় শস্যের সঙ্গে খেতে পারেন। যদি সঠিক প্রক্রিয়ায় তৈরি করে নিয়ম অনুযায়ী খাওয়া যায়, তাহলে এটি শরীরের জন্য পুষ্টিকর ও উপকারী। এটি শক্তিশালী উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আয়রনের ভালো উৎস। তবে বেশি খাওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছুই বেশি ভালো নয়।


