আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলা থেকে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক র্যালি শেষে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
এ কথা বলেন।
এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল- ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, কিডনি যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি স্টাডির ওপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৮২ লক্ষ ও দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। বর্তমানে এই রোগে মৃত্যুর স্থান অষ্টম ও ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মানুষের সুস্থ জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
র্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কিডনি রোগ প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনি সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্য চিকিৎসা বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কারণ, কিডনি রোগ দীর্ঘ দিন নীরবে বৃদ্ধি পায় ও সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে।
কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত র্যালিপূর্বক সমাবেশে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যয়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর ওপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের ওপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দুরূহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
একটা আশার বিষয় হচ্ছে কিডনি রোগের চিকিৎসা যতটা ব্যয়বহুল কিডনি রোগ নির্ধারণ কিন্তু ততই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধু একটি প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কিডনি রোগী শনাক্ত করতে অনেকখানি সক্ষম। আমরা যদি প্রতিটি ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই তথ্য ও আবেদিক পেলোতে এই তথ্য এবং এই প্রযুক্তিটাকে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে কিডনি রোগ শনাক্ত অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কিডনি রোগের প্রতিকারও সক্ষমতার ভেতরে চলে আসবে।
র্যালিটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। এতে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ৮ মার্চ বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমাণ ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ১১ মার্চ শের-ই-বাংলা নগরস্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কিডনি ডিজিস অ্যান্ড ইউরোলজি-এর অডিটোরিয়ামে কিডনি রোগ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


