কাজের ফাঁকে কিংবা মনের অজান্তেই আঙুল মটকানোর অভ্যাস অনেকের। আঙুল টানলেই ‘কট’ করে শব্দ হয়, আর তাতেই যেন এক ধরনের আরাম লাগে। তবে এই অভ্যাস নিয়ে বহুদিনের একটি ভয় রয়েছে—বারবার আঙুল মটকালে নাকি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাত হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান ও চিকিৎসা গবেষণা বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভয় পাওয়ার তেমন কারণ নেই।
আঙুল মটকালে ‘কট’ শব্দ হয় কেন?
আমাদের হাড়ের জোড়াগুলোর মধ্যে এক ধরনের পিচ্ছিল তরল থাকে। এটি হাড়কে একে অপরের সঙ্গে ঘষা লাগা থেকে রক্ষা করে। আঙুল টানলে বা বাঁকালে হাড়ের জোড়ার ভেতরের জায়গা সাময়িকভাবে বড় হয় এবং সেখানে চাপ কমে যায়।
ফলে ওই তরলে থাকা গ্যাস ছোট ছোট বুদ্বুদ তৈরি করে। এই পরিবর্তনের কারণেই পরিচিত ‘কট’ শব্দটি শোনা যায়। এটি হাড় ভাঙা বা হাড়ে ঘষা লাগার শব্দ নয়।
তাহলে কি ভবিষ্যতে বাত হবে না?
চিকিৎসা গবেষণায় সাধারণভাবে আঙুল মটকানোর সঙ্গে বাত হওয়ার সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ১৯৭৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা দীর্ঘদিন নিয়মিত আঙুল মটকাতেন এবং যারা কখনো এই অভ্যাস করেননি, তাদের মধ্যে বাতের হার প্রায় একই ছিল।
পরবর্তী গবেষণাগুলোতেও বহু বছর ধরে আঙুল মটকানোর অভ্যাসে হাতের বাতের ঝুঁকি বাড়ার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে জোর করে মটকানো বিপজ্জনক হতে পারে
স্বাভাবিকভাবে আঙুল মটকানো নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগের কারণ না থাকলেও জোর করে বারবার মটকানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। এতে হাড়ের জোড়ার চারপাশের নরম অংশ বা বন্ধনীতে টান লাগতে পারে।
বিশেষ করে ঘাড় বা পিঠ জোর করে মটকানো আঙুল মটকানোর মতো নয়। ঘাড়ে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু ও রক্তনালি রয়েছে। অতিরিক্ত জোরে ঘাড় মোচড়ালে গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
একবার মটকানোর পর আবার শব্দ হয় না কেন?
একবার আঙুল মটকানোর পর হাড়ের জোড়ার ভেতরের অবস্থা আগের অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর আবার একই ধরনের শব্দ হতে পারে।
ব্যথা না থাকলে স্বাভাবিকভাবে আঙুল মটকানোয় হাতের শক্তি কমে যাওয়ারও প্রমাণ নেই। তবে জোর করে বা অতিরিক্ত মটকানোর অভ্যাসে অস্বস্তি বা আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শিশুরাও খেলাচ্ছলে আঙুল মটকালে সাধারণত আতঙ্কের কারণ নেই। তবে অতিরিক্ত জোরে বা বারবার করার অভ্যাস যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখা ভালো।


