বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
21 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকআফগানিস্তান কেঁপে উঠল শক্তিশালী ভূমিকম্পে, নিহত ৮

আফগানিস্তান কেঁপে উঠল শক্তিশালী ভূমিকম্পে, নিহত ৮

প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬ ৯:২৫

মধ্য আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হেনেছে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতের এই ভয়াবহ ভূকম্পনে দেশটিতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের (জিএফজেড) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনটির মাত্রা ছিল ৫.৮ এবং এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮১ কিলোমিটার (১১২ মাইল) গভীরে সংঘটিত হয়।

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাখতার নিউজের বরাতে তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে মধ্য কাবুল প্রদেশের বাগরামি জেলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আফগানিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ভূমিকম্পটি আঘাত হানার পর থেকে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির সন্ধানে এখনও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

এদিকে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন অংশেও এই ভূমিকম্পের ফলে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এমনকি ভারতের দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মির অঞ্চলেও মানুষ তীব্র আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর এই ভূমিকম্পের তীব্রতা অনেক বেশি রেকর্ড করেছে। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.২ এবং গভীরতা ছিল ১৯০ কিলোমিটার। দেশটিতে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৩ মিনিটে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। রাজধানী ইসলামাবাদ ছাড়াও উত্তর-পশ্চিমের সীমান্তবর্তী প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া ও প্রত্যন্ত উত্তরাঞ্চলীয় গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভূকম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়।

আফগানিস্তানে এই ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ভারতের রাজধানী দিল্লিসহ উত্তর ভারতের বিস্তৃত অংশেও রাতের বেলা হঠাৎ কম্পন অনুভূত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় ও লুধিয়ানা এবং জম্মু ও কাশ্মিরের শ্রীনগর, পুঞ্চ ও উধমপুরে কম্পনের তীব্রতায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনসহ একাধিক শহরে শত শত মানুষ আতঙ্কে বহুতল ভবন ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন। গভীরতার কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই কম্পন অনুভূত হলেও ভারতের অংশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভৌগোলিকভাবে সক্রিয় হিন্দুকুশ ফল্ট লাইনে প্রায়শই এই ধরনের মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে কাঁপিয়ে তোলে।

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর