সোমবার, মে ৪, ২০২৬
সোমবার, মে ৪, ২০২৬
26 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকআজ জানাযাবে ‘এবার’ বিজেপি নাকি পশ্চিমবঙ্গে ‘আবার’ তৃণমূল

আজ জানাযাবে ‘এবার’ বিজেপি নাকি পশ্চিমবঙ্গে ‘আবার’ তৃণমূল

প্রকাশ: মে ৪, ২০২৬ ৮:১৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে মোট ২৯৪টি আসনে।

আজ সোমবার (৪ মে) ভোট গণনা করা হবে ২৯৩টি আসনের। একটি আসনে (ফলতা) পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে এ মাসেই।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনে ভোট হয়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট নেওয়া হয় ১৬ জেলার ১৫২ আসনে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট নেওয়া হয় কলকাতাসহ ৭টি জেলার ১৪২টি আসনে।

ফলাফল ঘোষণার আগে তাই রাজ্যটির সব রাজনৈতিক দল নজর রাখছে ভোট গণনার দিকে। সব দলই নিশ্চিত করতে চাইছে যেন গাফিলতি না হয় গণনার সময় বা কোনো প্রক্রিয়ায় যেন বিঘ্ন না ঘটে।

ভোট গণনায় বিশেষ নজর থাকবে ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ফলাফলের ওপর।

আগামীকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় রাজধানী কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হবে। গত নির্বাচনে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১০৮টি। কলকাতার সবচেয়ে বড় গণনাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে। এখানে কলকাতা মহানগরীর ১১টি আসনের মধ্যে সাতটি আসনের ভোট গণনা করা হবে।

প্রথমে গণনা করা হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর খোলা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম। দুপুর ১২টার মধ্যে জয়–পরাজয়ের গতিপ্রকৃতি জানা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রগুলো থেকে সব আসনের ভোট গণনা শেষ হতে রাতও হয়ে যেতে পারে।

ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গণনাকেন্দ্রগুলো। গণনাকেন্দ্রে যেসব রাজনৈতিক দলের গণনাকারী প্রতিনিধি প্রবেশের অনুমতি পাবে, তাদের ‘কিউআর কোড’–সংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। কোনো গণনাকারী প্রতিনিধি গণনাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। কেবল নির্বাচনি কর্মকর্তারা মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি পাবেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ইতোমধ্যে বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। তবে সেই জরিপগুলো নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক আর সমালোচনা। ছয়টি সংস্থা ইতোমধ্যেই তাদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে চারটি সংস্থাই বলছে বিজেপি রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চলেছে।

‘প্রজা পোল’-এর পরিসংখ্যান তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে। সংস্থাটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে বিজেপি ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন পেতে পারে (যা ২০২১ সালে ছিল ৭৭টি), যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন কমে ৮৫ থেকে ১১০-এ নেমে আসতে পারে (২০২১ সালে যা ছিল ২১৫টি)।

‘পি-মার্ক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন এবং তৃণমূল ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ‘মাত্রিজ’ বিজেপির জন্য ১৪৬-১৬১টি আসন এবং ‘পোল ডায়েরি’ ১৪২-১৭১টি আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে। এই সংস্থাগুলোর মতে, তৃণমূল যথাক্রমে ১২৫-১৪০ এবং ৯৯-১২৭টি আসন পাবে।

পুরো উল্টো চিত্র দেখা গেছে ‘জনমত পোল’-এর পরিসংখ্যানে। তাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস টানা তৃতীয়বারের মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে। এই সংস্থাটি তৃণমূলের জন্য ১৯৫-২০৫টি এবং বিজেপির জন্য ৮০-৯০টি আসনের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফলের খুব কাছাকাছি।

‘পিপলস পালস’ নামে আরেকটি সংস্থাও জানিয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৭-১৮৭টি আসন জিতবে এবং বিজেপি ৮৫ থেকে ১১০টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

তবে বুথফেরত জরিপে যাই বলা হোক না কেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনের পুরো ফলাফল দেখতে অধীর আগ্রতে অপেক্ষা করছে সব শ্রেণির নাগরিকরা।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর