স্বাধীনতার ৫৫ বছর ধরে এ নরক যন্ত্রণা বুকে ধারণ করে চলছিল সুন্দরপুর, সুয়াবিল ও নাজিরহাট পৌরসভার বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন। তবে, বিরাট প্রস্থের হালদা নদীর উপর একটি সেতুর নির্মাণের দাবী দীর্ঘদিনের। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত শেষে অবশেষে সেতুটির নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়েছে কিছুদিন আগে। বিগত সরকার সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলো। বর্তমানে পুরোদমে চলছে এই সেতু নির্মাণের কাজ।
৪৭ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের এই সেতুটির পিলার সংখ্যা ৮টি। ৯.৮ মিটার প্রস্থ এবং ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির ৫০-৬০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া, বর্ষার ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নির্মাণকাজে ব্যাঘাত হলেও এখন বিরামহীন ভাবে কাজ চলছে৷
হালদা নদীর সিদ্ধাশ্রম ঘাটে নির্মাণাধীন পাচঁপুকুরিয়া সেতু নির্মাণের ফলে সুন্দরপুরের সাথে নাজিরহাট পৌরসভা ও সুয়াবিলবাসীর সেতুবন্ধন যেমন হবে, পাশাপাশি নদীর পশ্চিম পাশের সুয়াবিল ইউনিয়ন, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন এবং পূর্ব পাড়ের ফটিকছড়ি পৌরসভা, উপজেলা সদরের সাথে দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতও নির্বিঘ্ন হবে। এ সেতুটির পূর্বে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পশ্চিমে চট্টগ্রাম-কাজিরহাট-হেয়াকো সড়ক।সেতুটি নির্মিত হলে সিদ্ধাশ্রম সড়কটি সরাসরি সংযুক্ত হবে দুপাশে বয়ে যাওয়া সড়কের সাথে। এতে করে হালদার দুই পাশের বিরাট জনগোষ্ঠীর জীবনমানের অভাবনীয় ও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।
সুয়াবিলের বাসিন্দা শিক্ষক মানষ চক্রবর্তী বলেন, অতীতে অনেকেই এ সেতু নির্মাণের দাবীতে লবিং তদবির করেছিলেন। সাংবাদিকদের নিয়মিত লিখনীতে উঠে এসেছিল সেতুর প্রয়োজনীয়তা।
পূর্ব সুয়াবিল গ্রামের শিবু শীল বলেন, কিছুদিন আগেও হালদা পার হতে গিয়ে সাকোঁ থেকে মোটরসাইকেল সহ নদীতে পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ রকম মৃত্যুর ঘটনা অহরহ ঘটেছে এখানে৷ সেতুটি আমাদের জন্য আর্শিবাদ হবে।
সুন্দরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুদ্দৌলাহ্ চৌধুরী দুলাল বলেন, সেতুটি দুই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি, প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে মানুষদের মুক্তি দিবে।
নাজিরহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গাজী আমান উল্লাহ বলেন, আমরা চাই সেতুর কাজ দ্রুত শেষ হোক। সেতুর নির্মাণকাজ টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ ও তদারকি প্রয়োজন।
সেতুর কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান অটুট রেখে দক্ষ শ্রমিক দ্বারা সেতুর কাজ চলছে৷
ফটিকছড়ি উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, ৯.৮ মিটার প্রস্থ এবং ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুততার সাথে এগোচ্ছে। মেয়াদকালের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এ সেতুর অভাবে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মেয়াদকালের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে এবং দুই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান যথেষ্ট উন্নতি ঘটবে। এছাড়াও সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি অংশের কৃষিপণ্য সহজে ফটিকছড়ি সদর, নাজিরহাটসহ জেলা শহরে বাজারজাত করাও সহজ হবে।


