ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন, একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
আবেদনটির ওপর শুনানির জন্য আগামী ১৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ।
সোমবার (১৩ জুলাই) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।
আবেদনে হাইকোর্টের রায় স্থগিতের পাশাপাশি সরোয়ার আলমগীরকে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখারও আবেদন করা হয়েছে।
আদালতে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
অন্যদিকে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম এবং আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম।
শুনানি শেষে আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত এবং সরোয়ার আলমগীরকে সংসদের অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
আদালত বিষয়টি আগামী ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছেন।
যেভাবে শুরু আইনি লড়াইঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেন। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
নির্বাচন কমিশন ওই আপিল গ্রহণ করে ১৮ জানুয়ারি সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার। প্রাথমিক শুনানি শেষে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আদেশ দেন, সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
পরবর্তীতে ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল দায়ের করা হয়। সেই আপিল নিষ্পত্তি করে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং আগের স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।
এরপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৯ জুলাই হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রুল অ্যাবসলিউট করেন। ওই রায়ের পর নির্বাচন কমিশন একই দিন সরোয়ার আলমগীরকে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। পরে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
তবে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ফলে বহুল আলোচিত চট্টগ্রাম-২ আসনের এই আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় এসেছে। এখন ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চের শুনানির দিকেই সবার নজর।


