শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
28.2 C
Dhaka
Homeজেলার খবরবন্যার পর নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা চাপের মুখে

বন্যার পর নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী, নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা চাপের মুখে

প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ৭:৫৮

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সৃষ্ট বন্যার পর চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা সবজি, মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার বিবিরহাট, নানুপুর, নাজিরহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম দু’তিন গুন বেড়েছে। টমেটো, শশা, কাঁচামরিচ, শিম, পটল, চিচিঙ্গা, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও লাউসহ অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে করলা ৮০-১০০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি, শশা ১০০ টাকার বেশি, কাঁচামরিচ ১৮০-২০০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, পটল ৬০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া কেজি ৫০-৬০ টাকা এবং লাউ ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ও মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম লক্ষ্য করা গেছে। দুই কেজি ওজনের কাতলা মাছ ৫০০ টাকার বেশি কেজি, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ ৪৭০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২৫০-৩০০ টাকা কেজি এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।গরুর মাংসের দামও বেড়ে কেজি প্রতি ৯০০ টাকার বেশি হয়েছে।

বাজার করতে আসা গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন, “প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগে যে টাকায় সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় প্রয়োজনীয় সবজিও কেনা কঠিন। সংসারের খরচ সামলাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”

নাজিরহাট বাজারের সবজি বিক্রেতা মো: হারেছ বলেন, “টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি ঠিকমতো আসছে না। অনেক জায়গায় জমিতে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে, তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।”

মাছ ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নিয়মিত নদী ও খালে মাছ ধরতে পারছেন না। আড়তে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দামও বেশি। তাই খুচরা বাজারেও কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।”

ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে এলে এবং উৎপাদন এলাকা থেকে সবজি ও মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, “টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবজি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সাময়িকভাবে দামের চাপ তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করছি, তারা দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় সবজি চাষ শুরু করবেন এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখানকার

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে দূর্ভোগ নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর