মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬
28.7 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হচ্ছে ১০১ শয্যারঃ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ

ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হচ্ছে ১০১ শয্যারঃ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ

প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১০:৫৭

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

দীর্ঘদিন ধরে শয্যা ও জনবল সংকটে থাকা এ দুটি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর এ সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের ৪১৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও এ অনুমোদন পেয়েছে।

পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন পদে জনবলও নিয়োগ দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়ির প্রায় ৭ লাখ মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ২ লাখ এবং খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার অনেক মানুষও চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে আসেন। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭-৮ লক্ষ মানুষ সেবা নিয়ে থাকে।

রোগীর তুলনায় শয্যা ও জনবল কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব হাসপাতালের বাড়তি চাপ সামলে সেবা দিতে হচ্ছে।বর্তমানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ করে রোগীরা চিকিৎসাসেবা নেন। জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।৫০ শয্যার হাসপাতাল গুলোতে গড়ে প্রায় ৭০ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

এছাড়া আই কেয়ার সেন্টার, নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব, সাপে ও কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা, ল্যাবরেটরি, এক্স-রে, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনাসহ নিয়মিত বিভিন্ন সেবা দিতে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে হিমশিম খেতে হয় এ সরকারি প্রতিষ্ঠানটিগুলোকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, “জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত, সহজলভ্য ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে সেবার মান ও পরিধি আরও বাড়বে।”

ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, “এটি ফটিকছড়িবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন। হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়লে উপজেলার মানুষ নিজ এলাকায় আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।”স্থানীয় বাসিন্দারা

বলেন, “চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়লে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।”

স্থানীয়দের আশা, অনুমোদনের পর দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তাহলে ফটিকছড়ির স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং আশপাশের উপজেলার মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর