২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ০৬ মিনিটে বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়ন করে চীন থেকে আনা এক ইঞ্জিনের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান এফ-৭ বিজিআই। বিমানে নিজের প্রথম একক মিশনে ছিলেন তরুণ বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম (সাগর)। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় বিমানটিতে মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পাইলট তৌকির ইসলাম জনবহুল এলাকা এড়িয়ে পাশের ফাঁকা স্থানে বিমানটি জরুরি অবতরণের প্রাণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু অত্যন্ত নিম্ন উচ্চতায় থাকায় তিনি ইজেক্ট করতে ব্যর্থ হন।
দুপুর আনুমানিক ১টা ১৮ মিনিটে বিমানটি প্রথমে মাইলস্টোন কলেজের সাততলা ভবন-৭-এর ছাদে ধাক্কা মারে এবং মুহূর্তের মধ্যেই আছড়ে পড়ে দুই তলা ‘হায়দার আলী ভবন’-এর ওপর। বিমানটি নিচতলার প্রধান ফটক ও সিঁড়ির অংশ ধ্বংস করে দিয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং চারদিকে আগুন ধরে যায়। ওই সময়ে ভবনটিতে প্রায় ৫৯০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকেই ক্লাস শেষে ছুটির পর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এই দুর্ঘটনায় বীরত্বপূর্ণ সাহসিকতায় ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরী ও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শিক্ষিকা মাহফুজা খাতুনসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ২৮ জনই ছিল শিশু। এ ছাড়া মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মারাত্মক দগ্ধ ও আহত হন ১৭১ জন।
আজ সেই বিভীষিকাময় ট্রাজেডির দিনে মাইলস্টোন প্রাঙ্গণে হারিয়ে যাওয়া নিষ্পাপ শিশু ও তাদের স্বজনদের অশ্রুসজল চোখে স্মরণ করছেন পুরো দেশবাসী।


