মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
31.7 C
Dhaka
Homeশিক্ষাতেজগাঁও কলেজে ‘লাল জুলাই’-এ প্রশাসনের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

তেজগাঁও কলেজে ‘লাল জুলাই’-এ প্রশাসনের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১১:০২

"যে রঙে লেখা ইতিহাস, সে রঙেই আঁকা ক্যানভাস"—প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে তেজগাঁও কলেজে উদযাপিত হলো দুই দিনব্যাপী স্বৈরাচারবিরোধী স্মরণোৎসব ‘লাল জুলাই’। জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাথা স্মরণে ছাত্রসমাজ আলোচনা সভা, স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করে।

গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারেই পুরো আয়োজনটি বাস্তবায়িত হয়। গত ২ আগস্ট উৎসবের সূচনা ঘটে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অঙ্কন এবং সন্ধ্যায় শহীদদের স্মরণে ‘মোমবাতি প্রজ্বলন’-এর মধ্য দিয়ে।

অনুষ্ঠানে বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মৃতি তুলে ধরে সংহতি প্রকাশ করেন জুলাই আন্দোলনের কারাবন্দী শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্য আ জ ম কামাল উদ্দিন, প্রফেশনাল সিএসসি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আমিনুল হক, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ এরশাদ আলী রহমান, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আমীর হোসেন এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ কামাল চৌধুরী।

ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেন তেজগাঁও কলেজ শিবিরের সভাপতি নাজমুল হোসেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোঃ আসিফ হোসাইন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভ হোসেন জিহাদ এবং তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন্নেছা বুশরা। এছাড়া নাগরিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সংহতি জানান ‘আলোর পাঠ’-এর আদনান ইসলাম রাতুল, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সাদিকুল ইসলাম সাব্বির, ‘গ্রীন ভয়েস’-এর সভাপতি এহসানুল হক হৃদয় এবং ‘তাদের পাশে আমরা’ সংগঠনের সহ-সভাপতি ফজরুল আমিন। আন্দোলনে আহত সাংবাদিক ইসমাইল সরদার ও শিক্ষার্থী এস এম আলবার অর্কসহ অন্যান্য যোদ্ধারা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের রক্তঝরা দিনগুলোর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের কথা ব্যক্ত করেন।

তবে উৎসবের সব আয়োজন সফল হলেও ক্যাম্পাসের শীর্ষ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক। আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিন এবং বিশেষ অতিথি গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (প্রশাসনিক) মোঃ নুর নবী আল মাহমুদ শেষ মুহূর্তে ‘দাপ্তরিক কারণ’ দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকেন। অন্যদিকে, নিশ্চিত করেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি অপর বিশেষ অতিথি ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) মোহাম্মদ রফিকুল আলম। গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে শীর্ষ প্রশাসনের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপস্থিতিতে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

ক্ষুব্ধ আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় তেজগাঁও কলেজে যে ভয়াবহ নিপীড়ন চলেছে, আমরা সব রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন এক হয়ে তা প্রতিরোধ করেছি এবং স্বৈরাচার উৎখাত করেছি। সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই আমাদের এই ‘লাল জুলাই’ আয়োজন। কিন্তু আয়োজনের দিনে শীর্ষ প্রশাসনের এমন রহস্যজনক কেটে পড়া ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনরুত্থানের দিকে ইঙ্গিত করে কি না, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে শঙ্কিত।”

আয়োজক দল হিসেবে পুরো উৎসবটির সুষ্ঠু পরিচালনায় ছিলেন শিক্ষার্থী সাখাওয়াত ফারহান, রাফসানুল হক কল্লন, মুহাম্মদ নিয়াজ মিয়া, মেসুত হিমেল, মুরসালিন খান, সোয়েব আহম্মেদ সিয়াম, ইনতেখান হোসেন রাফি, এস এ সাইম, ফারদিন ও তাবাসসুম। পরিশেষে, ক্যাম্পাসে সব ধরনের বৈষম্য, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকারের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর