শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeজাতীয়স্মার্টফোন উৎপাদনে সরকারের বড় সিদ্ধান্তঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্মার্টফোন উৎপাদনে সরকারের বড় সিদ্ধান্তঃ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৫৪

চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই দেশে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। দেশের প্রায় ৫ কোটি নতুন ব্যবহারকারীকে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ডাটা সংযোগসহ স্মার্টফোনের আওতায় আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এসব স্মার্টফোনের কার্যকর মূল্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে না এবং জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো ফিচার বা বাটন ফোন ব্যবহার করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সেবার মূলধারায় যুক্ত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত একটি সাশ্রয়ী স্মার্টফোন তৈরির জন্য মোট উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ মার্কিন ডলার। যন্ত্রাংশের আনুমানিক খরচের হিসাব:

  • এলসিডি স্ক্রিন: ১৭ ডলার
  • মাদারবোর্ড ও প্রসেসর: ২৩ ডলার
  • ব্যাটারি ও কেসিং: ১৫ থেকে ১৬ ডলার

উৎপাদন খরচ ৫৫ ডলার হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিটি ডিভাইসে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তুতকারকদের অনুরোধে কাঁচামাল আমদানি ও কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার ফলে ফোনগুলোর প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্যোগটির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশীয় উৎপাদক প্রতিনিধিরা চার সপ্তাহেরও বেশি সময় চীনে অবস্থান করে প্রযুক্তি ও সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন। সরকারও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট সহায়তা ও ঋণ সুবিধা অনুমোদন করেছে।

স্মার্টফোনের চূড়ান্ত মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে সরকার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটর এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।

তিনটি প্রধান মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি ফোনের সঙ্গে প্রথম তিন মাসের জন্য বিনা মূল্যে ডাটা ও ভয়েস প্যাকেজ যুক্ত করা হবে। ফলে প্রস্তুতকারকদের ভর্তুকি ও অপারেটরদের ডিজিটাল প্যাকেজের সমন্বয়ে একজন গ্রাহকের জন্য ফোনটির কার্যকর খরচ নেমে আসবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়।

পাশাপাশি, মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ইএমআই বা কিস্তি সুবিধার ওপর থাকা আগের বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে যেকোনো ব্যাংক গ্রাহকদের কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার আর্থিক সুবিধা দিতে পারবে।

পাঁচ কোটি সাধারণ গ্রাহককে সংযোগের আওতায় আনার পাশাপাশি চরম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী আনুমানিক ২ কোটি মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছাতে এই তহবিল কাজে লাগানো হবে। বর্তমানে এসওএফ তহবিলে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে দেশে শতভাগ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন কভারেজ অর্জন করা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একাংশ এখনো বাটন ফোন পছন্দ করায় ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় ফিচার ও দামের ফোন তৈরি করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রথম পর্যায়ের কিছু সেট শিগগিরই বাজারে পাওয়া যাবে। তবে ডিলারদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিতরণ অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর