শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়া শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় হোটেল ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও পর্যটকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ছয়টি রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুডের দোকান ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এই হামলায় তাদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিমুলিয়া ঘাটের ‘দাদা ভাই ফাস্টফুড অ্যান্ড জুস বার’-এ কয়েকজন বেদে সম্প্রদায়ের লোক জুসের অর্ডার দেন। জুস দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর, বেদে সম্প্রদায়ের লোকেরা রামদা, চাপাতি, লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হয়ে ঘাট এলাকায় ফিরে এসে অতর্কিতভাবে দ্বিতীয় দফায় দোকানগুলোতে হামলা চালায়। আক্রমণকারীরা একে একে ছয়টি রেস্তোরাঁয় চেয়ার-টেবিল, কাচের সরঞ্জাম, ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
হামলায় আহতদের মধ্যে রাজু, রাকিব, ইকবাল, ফেরদৌস, গোলাম রাব্বি, সিদ্দিক, আক্তার, মতি ও স্বর্গসহ ১৫ জনের নাম জানা গেছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর ঘাট এলাকায় ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে লৌহজং থানা, পদ্মা সেতু উত্তর থানা, শ্রীনগর থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


