শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬
শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬
27 C
Dhaka
Homeইউরোপফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, ৪০০ হাইস্কুল বন্ধ ঘোষণা

ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভ, ৪০০ হাইস্কুল বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:২২

ফ্রান্সে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা আজ শুক্রবারও (২ অক্টোবর) তাদের স্কুলের বাইরে বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেয় এবং পুলিশের মুখোমুখি হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলেও এই প্রতিবাদ আন্দোলন কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

গত সপ্তাহে প্যারিস অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে উচ্চমাধ্যমিক বা ‘লিসে’-র শেষ বর্ষের কিশোর শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনগুলোর প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে এবং পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য হলো, তাদের স্কুলের সময়সূচি বা ক্লাসের সময়সীমা অতিরিক্ত দীর্ঘ, প্রচণ্ড গরমের কারণে শ্রেণিকক্ষসহ সামগ্রিক পরিবেশ অসহনীয় এবং স্কুলে শিক্ষক ও কর্মীদের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

দেশটির সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ যৌক্তিক। তবে একই সঙ্গে তারা এই ঘটনাকে ‘নগর সহিংসতা’ হিসেবে তুলে ধরে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে এবং আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে নিয়মিত কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়ে তাদের আহত করছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক আলোকচিত্রী জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্যারিসে দুটি হাইস্কুলের প্রবেশদ্বারে আগুন দেওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো দক্ষিণাঞ্চলের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গ্যাস্তঁ-বাশলার্দ। এসব স্থানে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হয়।

জিম্মি অবস্থা

ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে বলেছেন, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনটি অতি-সহিংস কিছু চরমপন্থি গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দেশের মোট ৩ হাজার ৭০০টি হাইস্কুলের মধ্যে শুক্রবার প্রায় ৪০০টি বন্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মার্সেইসহ অনেক হাইস্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

বিএফএমটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এদুয়ার্দ জফ্রে জানান, আন্দোলন শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৬৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এবং ১০০টিরও বেশি হাইস্কুল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদুয়ার্দ জফ্রে আরও বলেন, ‘অভিভাবকদের অবশ্যই স্পষ্ট ভূমিকা নিতে হবে এবং সন্তানদের এই বিক্ষোভে না যাওয়ার জন্য বলতে হবে। মূল বিষয় হলো আমাদের সন্তানরা যেন আর রাজপথে না থাকে, কারণ তারা ঝুঁকিতে রয়েছে।’

আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, তিনি প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে বিক্ষোভের সময় ‘সন্তানদের মাধ্যমে’ হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য অভিভাবকদের দায়ী করা হয় এবং মেরামতের খরচ তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

দেশটির গণমাধ্যম আরটিএল-কে দারমানাঁ জানান, আন্দোলন শুরুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে—যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

‘আমরা জিতে গেছি’

শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রেনের জঁ-মাস হাইস্কুলের বাইরে উত্তেজনা বেশ স্পষ্ট ছিল। সেখানে ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যদের কাছেই কালো পোশাক ও মুখোশ পরা শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিল।

১৬ বছর বয়সী লোলা (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে আমরা জিতে গেছি—আজ সকালে আমাদের স্কুল বন্ধ রয়েছে।’ পুলিশি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে লোলা বলেন, ‘পরিস্থিতি আমাদের আরও বেশি ক্ষুব্ধ করে তুলছে—পুলিশের কোনো অধিকার নেই আমাদের মারধর করার বা আমাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করার।’

বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক আলোকচিত্রী জানান, ফরাসি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টের কেরিচেন হাইস্কুলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাসের কিছু বেশি সময় আগে এই বিক্ষোভগুলো তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সরকার অভিযোগ করছে যে, উগ্র-বামপন্থি দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’ (এলএফআই) এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে। দলটির তুখোড় নেতা জ্যাঁ-লুক মেলেনশঁ আবারও প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে এলএফআই-এর জ্যেষ্ঠ নেতা মানুয়েল বঁপার সরকারের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বে’ জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ এনেছেন।

উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জফ্রে জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের পথ খুঁজতে তিনি শুক্রবার শিক্ষা ইউনিয়ন এবং হাইস্কুল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর