মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়িতে পাসের হারে এগিয়ে মাদরাসাঃআলিমে ৭৫.৪২% ও এইচএসসিতে ৩৯.৪০%

ফটিকছড়িতে পাসের হারে এগিয়ে মাদরাসাঃআলিমে ৭৫.৪২% ও এইচএসসিতে ৩৯.৪০%

আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৭:৩৬
প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৭:০৪

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০২৬ সালের আলিম ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারে বড় ব্যবধান দেখা গেছে।

উপজেলার মাদরাসাগুলোতে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৭৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে, কলেজগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ, পাসের হারে কলেজের তুলনায় মাদরাসা এগিয়ে ৩৬ দশমিক ০২ শতাংশ পয়েন্ট।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২২৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুজন। অন্যদিকে এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫৮০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

তবে, পাসের হারে মাদরাসাগুলো এগিয়ে থাকলেও মোট পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় এগিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর অন্যতম কারণ, কলেজে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মাদরাসার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ।

ফটিকছড়ির মাদরাসাগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে মাদরাসা-এ গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।জামিয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া কামিল মাদরাসায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কাঞ্চননগর হাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও সামশুল উলুম গাউছিয়া আলিম মাদরাসায় পাসের হার ৮০ শতাংশ করে।

নানুপুর মহিলা আলিম মাদরাসায় ৭৯ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন।নারায়ণহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৫ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।এ ছাড়া ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল মাদরাসায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং সমিতিরহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় ৪৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

জামিয়া মিল্লিয়া আহমদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ খোরশিদ আলম ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এবারের ফলাফল ইতিবাচক।’

ফটিকছড়ি সরকারি কলেজে ৮১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৩৫ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন পাঁচজন। উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানেই সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

কলেজটির অধ্যক্ষ মো: আবদুল খালেক বলেন, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ ফলাফলে ভালো করছে। তবে শুধু পাসের হার দিয়ে শিক্ষার সামগ্রিক মান নির্ধারণ করা যায় না। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, জিপিএ-৫, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, শিক্ষকসংখ্যা, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
নানুপুর লায়লা-কবির কলেজে ৪০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪৪ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন।

পূর্ব ধলই খাদিজা মালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৬০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ইছাপুর বাদশা মিয়া চৌধুরী কলেজে ৩৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, গুলতাজ মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশ, শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ২৬ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।

উত্তর ফটিকছড়ির তিনটি কলেজে ৩৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১৫ জন। এ অংশে পাসের হার ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ। ভুজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, নারায়ণহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজে ৩৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজে ৩০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসের তিশা বলেন, তার ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো করার প্রত্যাশা রয়েছে তার।

ফটিকছড়ি জামেউল উলুম ফাজিল মাদরাসার সদ্য উত্তীর্ণ এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, আল্লাহর রহমতে তিনি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করেছেন এবং ফলাফলেও সন্তুষ্ট।

মায়মুনা আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, তার মেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে এ গ্রেড পেয়েছে। মেয়ের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট।

ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, আলিম ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারের এই ব্যবধান শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করা, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মাদরাসাগুলোর তুলনামূলক ভালো ফলাফল ইতিবাচক হলেও কলেজ পর্যায়ে পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে থাকা উদ্বেগের বিষয়। শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে পাঠদানের মান, নিয়মিত মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর