শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeবাংলাদেশতিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট

প্রকাশ: জুন ২৪, ২০২৬ ১১:৫৭

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির চাপ বাড়তে থাকায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। ফলে পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ বন্যা শঙ্কায় রয়েছেন। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান বলেন, ‘উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে নদী তীরবর্তী এলাকার পুকুর, সবজি, গবাদিপশু ও বসতভিটা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য পানি বৃদ্ধি পেলেই নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নিয়মিত নদীখনন ও ড্রেজিং করা হলে বন্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে। নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট সার্বক্ষণিক খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর