কুষ্টিয়ায় চলমান তীব্র শীত ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজ চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক
পর্যায়ের কৃষকরা। একদিকে আগাম রোপণ ও উন্নত জাতের কারণে ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিস্থিতি পেঁয়াজের চারায় রোগের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
সাধারণত প্রতি বছর পৌষ মাসের শুরুতে পেঁয়াজের চারা রোপণ শুরু হলেও এবছর তা হয়েছে তার আগেই। কৃষকরা জানান, ধান কাটার পরপরই পেঁয়াজের চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে হাইব্রিড জাতের ধান তুলনামূলক দ্রুত পরিপক্ক হওয়ায় পেঁয়াজ রোপণের সময় কিছুটা এগিয়ে এসেছে।
কুষ্টিয়ার কৃষকরা এবছর প্রধানত সুখ সাগর , লাল তীর হাইব্রিড (Lal Teer Hybrid), লাল তীর কিং (Lal Teer King) এবং Super King Hybrid জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন। কৃষকদের মতে, এই নতুন জাতগুলো আগের তুলনায় ভালো ফলন দিচ্ছে, যা তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি, এবছর পেঁয়াজ চাষের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে পেঁয়াজের চারায় সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছে। অনেক ক্ষেতেই চারার মাথা বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং লালচে রং ধারণ করার লক্ষণ দেখা গেছে, যা রোগের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কৃষকরা। এতে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের খড়িলার বিল এলাকার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক বাধা না এলে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের ফলন প্রতিবছরের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। আগাম রোপণের ফলে পেঁয়াজ ভালোভাবে পরিপক্ক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।


