মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সজীব আম দেওয়ার কথা বলে একই শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেয়। সে সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগে শিশুদের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, প্রথমে হাত-পা বেধে ৩ শিশুকেই বিবস্ত্র করে বিছানায় যৌন নিপিড়ন চালায়। পরে দুজনকে বিছানার পাশে অন্যদিকে মুখ দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখে এক শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ঐ তিন শিশুকে ৩ শত টাকা দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ৩ শিশু টাকা না নিয়ে ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে স্বজনদের জানায়। সাথে সাথে ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থীর দাদা এলাকার প্রধানদের শরণাপন্ন হন এবং উপযুক্ত বিচার প্রার্থনা করেন। এ ঘটনায় এলাকার প্রধানবর্গ রোববার শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন।
এদিকে নিজেদের নির্দোষ দাবী করে এটাকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে অভিযুক্ত সজীব এবং তার বাবা হাফেজ আব্দুল হাই শালিসে উপস্থিত না হলে বিক্ষুব্ধ হয়ে যায় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শালিস বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সজীবের বাবা হাফেজ আব্দুল হাই জানিয়েছেন, তার ছেলে সজীব ঢাকায় পড়াশোনা করার কারনে বাড়িতেই থাকে না। তার ছেলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এলাকার প্রধানরা টাকা দাবি করে। এই টাকা না দেওয়ায় কারণে সম্মানহানি করার জন্য তার ছেলেকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।


